বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন লেনদেন যেমন আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়েছে, তেমনি অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। এএমএল (Anti-Money Laundering) চর্চা তাই এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সুশাসনের প্রশ্ন।
বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। ওভার-ইনভয়েসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মতো বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচার এবং হুন্ডি চ্যানেলের মাধ্যমে এই অর্থ দেশের বাইরে চলে গেছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ দেশীয় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অর্থপাচার প্রতিরোধে রয়েছে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং তদারকিতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। KYC, CDD ও সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু আইন থাকলেই যথেষ্ট নয়—কার্যকর প্রয়োগ ও সর্বস্তরের সচেতনতা জরুরি।
বাস্তবে দেখা যায়, অনেক গ্রাহক অজ্ঞতাবশত নিজের ব্যাংক হিসাব অন্যকে ব্যবহার করতে দেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করেন। অথচ এ ধরনের কাজ আইনত দণ্ডনীয় এবং অর্থপাচারের ঝুঁকি বাড়ায়। ডিজিটাল যুগে ওটিপি, পিন ও পাসওয়ার্ড গোপন রাখা, অচেনা লেনদেন এড়িয়ে চলা এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত ব্যাংককে জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থপাচার রোধে কেবল নিয়ন্ত্রক কঠোরতা নয়, প্রয়োজন সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ। আইন, ব্যাংক ও গ্রাহক—তিন পক্ষের সমন্বিত দায়িত্ববোধেই গড়ে উঠবে স্বচ্ছ ও টেকসই ব্যাংকিং ব্যবস্থা।
লেখক:
সৈয়দ মিয়া হাসান
সার্টিফাইড AML & CFT প্রফেশনাল
আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পি এল সি