মোঃ মনিরুল ইসলাম রিয়াদ
স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা সংগঠক অ্যাডভোকেট ফরিদা আকতার দীর্ঘ ৩৪ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।ছাত্রজীবন থেকে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এই নেত্রী দলীয় দুর্দিনে একাধিকবার গ্রেপ্তার, কারাবরণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানান। তিনি দাবি করেন, আপোষহীন নেতৃত্বের প্রতীক খালেদা জিয়া-র মুক্তির দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে বারবার হামলা-মামলার মুখোমুখি হয়েছেন এবং কারাবন্দী জীবন কাটিয়েছেন।
তিনি বলেন,বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পারিবারিকভাবেই তার রাজনীতিতে পথচলা শুরু। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারটি বিএনপির জন্মলগ্ন থেকেই দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক আদর্শ ও পারিবারিক ঐতিহ্য তার জন্য গর্বের বিষয় এবং এই ধারাবাহিকতাই তাকে দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথে সক্রিয় রেখেছে।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ৪২ দিন কারাবরণ করেন বলে জানান। একই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় আরও ৫১ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। এছাড়া ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয় এবং রিমান্ড শেষে আদালতে পাঠানো হয় বলে তার দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন চলাকালে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন এবং একাধিকবার শারীরিকভাবে নির্যাতিত হন।
চট্টগ্রামে এক বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-সহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে তাকেও বেদম প্রহার করা হয় এবং গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, ওই ঘটনার ভিডিও দেশব্যাপী গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ১/১১ সময়কালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে বারবার হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন।
নির্বাচনী রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন ফরিদা আকতার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০১০ সালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচন করেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও যুক্ত আছেন।
তিনি বলেন, “কথায় নয়, কাজেই পরিচয়”এই বিশ্বাসে রাজনীতি করেছেন। তার মতে, রাজনীতি মানে শুধু জনসভা বা প্রচার নয়, বরং ত্যাগ, আদর্শ ও জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চারটি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নানা ক্ষতির সম্মুখীন হলেও দলীয় আদর্শ থেকে সরে যাননি।
তার পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসও তুলে ধরেন ফরিদা আকতার। তার মা মরহুম আনোয়ারা করিম রাউজান উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি ছিলেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে ফরিদা আকতার বলেন, সুযোগ পেলে নারী ক্ষমতায়ন, তৃণমূল জনগণের অধিকার রক্ষা, কর্মসংস্থান ও জবাবদিহিতামূলক রাজনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান। তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন এবং নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থেকে দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।