আজ একটা প্রশ্ন বারবার মাথায় ঘুরছে—
আমরা কি সত্যিই আমাদের ঘরে থাকি?
নাকি শুধু রাত কাটাতে সেখানে ফিরে যাই?
একসময় মানুষ নিজের ঘরের প্রতিটি কোণ চিনত। কোথায় চাবি, কোথায় ওষুধ, কোথায় পুরোনো চিঠি, আর কোথায় বসলে মনটা একটু শান্ত হয়—সব জানা ছিল। ঘর তখন শুধু ইট-পাথরের কাঠামো ছিল না, ছিল জীবনের অংশ।
আজ আমরা অনেক বড় বাড়ি বানাই।
বড় ড্রয়িংরুম, বড় ডাইনিং, বড় বেডরুম।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বড় হওয়ার ভেতরে আমরা নিজের জন্য কতটুকু জায়গা রেখে দিয়েছি?
সারাদিন দৌড়।
আরও আয়।
আরও সাফল্য।
আরও সুবিধা।
আরও বড় কিছু পাওয়ার চেষ্টা।
কিন্তু যে ঘরটার জন্য এত পরিশ্রম, সেই ঘরটাতেই আমরা সবচেয়ে কম সময় কাটাই।
পুরুষেরা একসময় সংসারের খুঁটিনাটি জানতেন।
নারীরা ঘরের প্রতিটি জিনিসের সঙ্গে মায়া জড়িয়ে রাখতেন।
এখন দুজনেই ব্যস্ত।
দুজনেই ক্লান্ত।
দুজনেই ছুটছি।
ফলে ঘর আছে, কিন্তু ঘরজুড়ে উপস্থিতি নেই।
অথচ সুখের সংজ্ঞা হয়তো এত জটিল নয়।
সুখ হয়তো নিজের বিছানায় নিশ্চিন্ত ঘুম।
সুখ হয়তো বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টির শব্দ শোনা।
সুখ হয়তো পরিবারের মানুষের সঙ্গে নির্ভেজাল কিছু মুহূর্ত।
সুখ হয়তো নিজের ঘরের নীরবতায় নিজেকে খুঁজে পাওয়া।
আমরা প্রাসাদ বানাতে শিখেছি,
কিন্তু আশ্রয় বানাতে কি শিখেছি?
আমরা ঘর সাজাতে শিখেছি,
কিন্তু ঘরে থাকতে কি শিখেছি?
আমরা জীবনের জন্য বাড়ি বানাই,
নাকি বাড়ির জন্য জীবন কাটিয়ে দিই?
আজ একটু থামি।
একটু চারপাশে তাকাই।
যে ঘরটার জন্য জীবনের এতটা সময়, এতটা শ্রম, এতটা স্বপ্ন ব্যয় করেছি—সেই ঘরটাকে আজ একটু সময় দিই।
কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ তার সম্পদের কাছে ফিরে যায় না,
ফিরে যায় তার আশ্রয়ের কাছে।
আর আশ্রয় মানে শুধু একটা বাড়ি নয়—
আশ্রয় মানে সেই জায়গা, যেখানে মন শান্তি খুঁজে পায়।
ফেইসবুক ভেরিফাইড পেইজ হতে সংকলিত