
নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে অবিনশ্বর জগতে একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে… এই ধরনীতে মহান রাব্বি করিম আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সৃষ্টি সেরা মানুষ জাতি এই মানুষের মাঝে অনেকেই নিরবে নিভৃতে প্রচার বিহীন বা প্রচার বিমূখ হয়ে দ্বীনের জন্য মানুষ ও মানবতার কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে আল্লাহর রহমতের চাদরে আবৃত হয়ে পড়েছে। শেষ নবী উম্মতের শেষ আশ্রয়স্থল হযরত মুহাম্মাদ মোস্তাফা (সা:) দেখানো পথকে আঁকড়ে ধরে নিজের জীবনকে হাজারো বাঁধা বিপত্তির মাঝে ও ধৈর্য্য ধারণ করে পৃথিবীতে জ্ঞানের মশাল হাতে নিয়ে মানুষকে আলোকিত ও সহজ সরল পথে ডেকে যায় অবিরত। আমরা নতুন প্রজন্মের তরুণদের মহা মনীষীদের জীবনী পাঠ করতে হবে তাদের জীবনের আলোকময় পথ অবলম্বন করতে হবে।
আজকে একজন সাদা মনের আলোকিত মানুষ চট্টগ্রামের সুপরিচিত হযরত মাওলানা আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ সাহেব জীবনী গ্রন্থ আকারে লিখতে চেষ্টা করছি ইনশাআল্লাহ।
১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রাম জেলা বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা গ্রামে ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা পীরে তরিকত হযরত শাহ মাওলানা রশিদ আহমদ মাতা : মরহুমা ইসলাম খাতুন। পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তান। দাদা ছিলেন একজন ধর্মভীরু শাহ মাওলানা ফকির জমিরুল উল্লাহ।
বাবা একজন আলেম ছিলেন তিনি মহান রাব্বি করিম আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সহজ সরল পথে ধমীয় মানুষদের তালিম দিতেন। মাওলানা নুর মোহাম্মদ ছোটবেলা থেকে বাবা মায়ের সান্নিধ্যে থেকে বেড়ে উঠতে লাগলো… সব সময় মা- বাবার আদর স্নেহে জড়িয়ে থাকতেন। পড়া লেখা শুরু করেন গ্রামের মধ্যম শাকপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ছোট বেলা থেকে পড়া লেখায় মনোযোগী ছাত্র হিসেবে শিক্ষকদের কাছে প্রশংসিত ছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে ভর্তি হয় শাকপুরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে।ছোটবেলা থেকে মাওলানা নুর মোহাম্মদ নিয়মিত নামাজ পড়তেন. সবক্ষেত্রেই বাবাকে অনুসরণ করতো. দ্বীনের প্রতি আগ্রহের কমতি ছিলো না. ছেলের চলাফেরা গতি লক্ষ্য করে পিতা এক বছর পর ছেলেকে বেঙ্গুরা সিনিয়র মাদরাসায় ভর্তি করে দেন।
মাদরাসায় সর্বকনিষ্ঠ ছাত্র হিসাবে সকলের প্রিয় হয়ে যায়…
পড়া লেখা হাতেখড়ি আব্বার হাত ধরে. ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি মানুষের সাথে আচার ব্যবহারের তালিম দিতো নিয়মিত। বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিলে প্রথম বিভাগে পাস করে মানুষ মরণশীল আল্লাহ তায়ালা মানুষকে হায়াতের নিদিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছে যখন ডাক দিবে তখনি রবের কাছে ফিরে যেতে হবে। মাওলানা আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ সাহেবের পিতা শাহ মাওলানা রশিদ সাহেব ১৯৭২ সালে ১৬ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন। পরম মায়া মমতায় পৃথিবীর বুকে যিনি আগলে রেখেছেন তিনি চলে যাওয়ায় অনেকটায় শোকে স্তব্ধ হয়ে যান। চারপাশেই পিতার স্মৃতিগুলো চোখে ভাসছে। তিনি একজন কামেল পীর সাহেব ছিলেন তার শতশত মুরিদ বাড়িতে আসা যাওয়া করতে লাগলো।বাবার উত্তোরাধিকার হিসেবে শরীয়তের পাশাপাশি তরিকতের কাজে নিয়োজিত হয়ে পড়েন।
তরিকতের অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করার জন্য স্বপ্ন যোগে অধিষ্ঠিত হয়ে ছুটে যান চট্টগ্রামের সাতকানিয়া গাংরাঙ্গিয়া আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহসুফি মাওলানা আবদুল মজিদ ( বড় হুজুর ) কেবলার হাতে বায়েত গ্রহণ করেন।
১৯৭৪ সালে গাংরাঙ্গিয়া বড় হুজুর কেবলা’র তরিকতের দায়িত্ব পালনে মোজাদ্দেদীয়ার তরিকার খেলাফত প্রাপ্ত হয়।
এরপর থেকে শুরু হয় দেশের বিভিন্ন জেলায় মিলাদ মাহফিল ধমীয় সেমিনার অনুষ্ঠানে যাতায়াত নেমে পড়েন তরিকতের কাজে।সিলেট হবিগঞ্জ চুনারুঘাট উপজেলার দারুলিয়া গ্রামে মাওলানা আবদুল মান্নান সাহেবসহ শাহ রশিদিয়া হামেদীয়া খানকাহ শরীফ প্রতিষ্ঠিত করেন।
নোয়াখালী নেয়ামতপুর ও চয়নি বাজারে দুটি খানকায় শরীফ প্রতিষ্ঠিত হয়। সব জায়গায় নিয়মিত যাওয়া আসা হয়। সবসময় এবাদত জিকির খানকাহ শরীফে চলতো।
পটিয়া উপজেলা বানিপুর গ্রামে ফকির মোহাম্মদ মিয়া কন্ট্রাক্টরের নেতৃত্বে মোজাদ্দেদীয়া আলফেসানী জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত করেন। এখানে দীনের খেদমত ও শিক্ষার মশাল জ্বালানোর জন্য মাওলানা নুর মোহাম্মদ সাহেবের দাদা মরহুম শাহ মাওলানা ফকির জমিরুল উল্লাহ’র নামে একটি দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত করেন।
ছোটবেলা থেকে মাওলানা নুর মোহাম্মদ স্বপ্ন দেখতেন নিজেকে কলেজের প্রফেসর হিসাবে গড়ে তুলবে। শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবে। বাবার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন আরবি শিক্ষার প্রতি। অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষকদের কাছে পরিচিত ছিলেন বেঙ্গুরা সিনিয়র মাদরাসা থেকে ১৯৬২ সালে বাংলাদেশ মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল প্রথম শ্রেণীতে পাশ করেন। একই মাদরাসা থেকে ১৯৬৬ সালে আলীম পাস করেন। ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম কামিল মাদরাসা থেকে ফাযিল পাস করেন। ১৯৭০ সালে কামিল (হাদীস) পাশ করেন।১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে (নৈশকালীন) এইচএসসিতে ভর্তি হয় ১৯৭২ সালে কৃতিত্বের সাথে পাশ করে পাঁচলাইশ ওয়াজিদিয়া কামিল মাদরাসায় ফিকাহ বিভাগে ভর্তি হয় সেখানে হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যান। সেখান থেকে ১৯৭৪ সালে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন।
এখানে উল্লেখ্য যে মাওলানা নুর মোহাম্মদ’র বাবাকে চরখিজিরপুর টেক্সঘর আলা উদ্দিন মাস্টার ছেলেকে শাকপুরা প্রবত্তক প্রাইমারিতে ধর্মীয় শিক্ষক হিসাবে শিক্ষকতা করার জন্য অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর ১৯৭৩ সালে এই বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ কার্যকর হয়।
পড়ালেখা শিক্ষকতা ও দ্বীনের খেদমতে ব্যস্ত জীবন পার করে যাচ্ছেন। এরমধ্যে ১৯৭৪ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। চট্টগ্রামের প্রখ্যাত পীরে কামেল আধাত্মিক সাধক গারাংগিয়ার হযরত শাহ সুফি মাওলানা আবদুল মজিদ (রহ:) (বড় হুজুর ) নাতনী শাহ সুফি মাওলানা আবদুল হকের প্রথম কন্যা ও ফেনী আলীয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ . বাংলাদেশ জমিয়তুল মোদারেছিন’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শাহ মাওলানা ওবায়দুল হক সাহেবের কন্যার মেয়ে ( নাতনী) মোছাম্মদ আরাফা বেগমের সহিত বিবাহ হয়।
( লেখা: আতিকুর রহমান আতিক )
Leave a Reply