বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীন, প্রখ্যাত লেখক, গবেষক, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং আলোকিত বক্তা এ যুগের শুদ্ধস্বর, নীতি-নৈতিকতার প্রতীক ও সুন্নীয়তধারার এক বলিষ্ঠ প্রহরী,দার্শনিক আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান আল-কাদেরী (মুজিআ) উপমহাদেশে একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও আলোকিত বক্তা।
আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান আল-কাদেরী (মুজিআ) ১৯৬১ সালে চট্টগ্রাম জেলার তৎকালীন পটিয়া থানার (বর্তমান চন্দনাইশ উপজেলা) ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জনপদ ও উপশহর দোহাজারী ইউনিয়ন ( বর্তমান দোহাজারী পৌরসভা ) ৭ নং ওয়ার্ডের হাজী পাড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মোহাম্মদ আবু বকর। মাতা মরহুমা গোল চম্পা খাতুন।
শৈশবকাল থেকেই তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা ও দ্বীনি আগ্রহ ছিল লক্ষণীয়। অল্প বয়সেই তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ হেফজ সম্পন্ন করেন, যা তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের জ্ঞান সাধনার ভিত্তি রচনা করে।
পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা থেকে ১৯৭৯ সালে কৃতিত্বের সাথে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জন করেন।
অসাধারণ স্মৃতিশক্তি, গভীর অধ্যয়ন এবং তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ ক্ষমতার অধিকারী এই আলেমে দ্বীন ১৯৮০ সালে উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বুড়িশ্চর জিয়াউল উলুম ফাজিল মাদরাসায় শিক্ষকতা জীবনের সূচনা করেন। তাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, দরস এবং শিক্ষাদানের অভিনব পদ্ধতিতে অল্প সময়েই তাঁকে একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
পরবর্তীতে ১৯৮৮ সাল থেকে অদ্যাবধি আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান আল-কাদেরী (মুজিআ) এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ষোলশহরস্থ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘ এই সময়কালে তিনি হাজার হাজার ছাত্র, আলেম-ওলামা ও গবেষক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে অনেকে দেশ-বিদেশে ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন, যা তাঁর শিক্ষাদানের সফলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
লেখক হিসেবেও আল্লামা আশরাফুজ্জামান আল-কাদেরী সুপরিচিত। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে : ১) বিবেকের দুয়ারে হানি আঘাত, ২) বর্ণচুরাদের কর্ণকুহরে, ৩) বর্ণচুরা কারা। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব গ্রন্থে তিনি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, বিভ্রান্তি ও মতাদর্শিক বিচ্যুতির বিরুদ্ধে যুক্তিনির্ভর ও সাহসী অবস্থান তুলে ধরেছেন।
ইসলামী শিক্ষা বিস্তার, সুন্নীয়ত প্রতিষ্ঠা এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সঠিক আকীদা-মানহাজ প্রচারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য ও চিরস্মরণীয়। তাঁর বলিষ্ঠ লেখনী, প্রজ্ঞাময় বক্তব্য এবং আদর্শিক দৃঢ়তা তাঁকে এ যুগের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামী চিন্তাবিদে পরিণত করেছে।
অনেক আলেম-ওলামায়ে কেরাম তাঁকে এ যুগের “শেরে বাংলা” বলে আখ্যায়িত করে থাকেন ; যা তাঁর সাহসী নেতৃত্ব, সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং দ্বীনের খেদমতে নিবেদিত জীবনের স্বীকৃতি।
আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান আল-কাদেরী (মুজিআ) শিক্ষাবিস্তার অবদান রেখে চলেছেন।তিনি চন্দনাইশ উপজেলার প্রান্তিক অবহেলিত জনপদ ধোপাছড়ি ইউনিয়নে ধোপাছড়ি তৈয়বীয়া ছাবেরিয়া আজিজিয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসার দাতা সদস্য। নিজ উদ্যোগে হুজুর সেখানে একটি ভবন নির্মান করে দিয়েছেন।
পারিবারিক জীবনে আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান আল-কাদেরী (মুজিআ) চন্দনাইশের কৃতীসন্তান, খ্যাতিনামা শিক্ষাবিদ ফজলুল হক সাহেবের ২য় কন্যা মোছাম্মদ নাসরিন আকতারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের পরিবারে ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে আছে। সকলেই উচ্চ শিক্ষিত দ্বীনদার ও পরহেজগার। দুই মেয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে সফল চিকিৎসক।
আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান আল-কাদেরী (মুজিআ) মসলকে আ’লা হযরতের একজন নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক হিসেবে তাঁর চিন্তা, কর্ম ও লেখনীর মাধ্যমে সুন্নীয়তের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
জ্ঞান সাধনায় নিমগ্ন এই আলোকিত মনীষীর সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং দ্বীনি খেদমতের ধারাবাহিকতা কামনা করি। মহান আল্লাহ তাঁকে নেক হায়াত দান করুন এবং তাঁর কর্মকে কবুল করুন—এই আমাদের আন্তরিক প্রার্থনা।
লেখক: সভাপতি, মুসলমান ইতিহাস সমিতি ; পরিচালক ও সম্পাদক , দ্যা একাডেমি অব হিস্ট্রি ( ইতিহাসের পাঠশালা ) বাংলাদেশ।