বিশেষ প্রতিবেদক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দ্বীন ইসলাম (২৬) নামে এক তরুণ, সাহসী ও প্রতিবাদী সাংবাদিককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিমরাইল গ্রামে নিজ বাড়ির অদূরে ডেকে নিয়ে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত দ্বীন ইসলাম শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থেকে এলাকার মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন ও মতামত প্রকাশ করে আসছিলেন।
পুলিশের বক্তব্য
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তবে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।”
মাদকবিরোধী অবস্থানই কি হত্যার কারণ?স্থানীয় সূত্র ও সহকর্মীদের দাবি, দ্বীন ইসলাম মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার ছিলেন। তার প্রকাশিত প্রতিবেদন ও বক্তব্যে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একাধিক প্রভাবশালী চক্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। ফলে তাদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এবং একাধিকবার হুমকির মুখেও পড়েন তিনি।
নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তিনি সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা শহরে ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামে এলে এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হন।
সাংবাদিক মহলে শোক ও ক্ষোভ
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন,
“একজন সাহসী ও প্রতিবাদী সাংবাদিককে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা শুধু একটি ব্যক্তির মৃত্যু নয়, এটি গোটা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের শামিল। যারা তার বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করছিল, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করলেই প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব।”
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উত্তেজনা ও নিরাপত্তা শঙ্কা
ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কেবল তদন্ত নয়, দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি—অন্যথায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।
দ্বীন ইসলাম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় না আনলে এর দায় এড়াতে পারবে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।