মুহাম্মদ আবদুল আলী- চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি:
কুরআনের আদর্শ প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশ থেকে দুর্নীতি, অপশাসন ও জুলুম দূর হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে কুরআনময় করতে না পারলে মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত নাগরিক অধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা পাবে না।
আজ বিকেলে হোটেল সৈকতে সাংবাদিক, সুধী ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সম্মানে নগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, রমজান মাস অন্য সব মাস থেকে ভিন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ—কারণ এ মাসেই পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে। রমজান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিশেষ নিয়ামত। এ মাস আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও কুরআনের শিক্ষাকে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের মাস।
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) মদীনায় হিজরতের মাধ্যমে কুরআনের আদর্শকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ফলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। আজও যদি আমরা কুরআনের আলোকে দেশ গড়তে পারি, তবে দুর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম ও অন্যায় স্বাভাবিকভাবেই বিলুপ্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, এই জনপদে ঘুষ-দুর্নীতি ও জুলুম বন্ধ না হওয়ার মূল কারণ হলো কুরআনের বিধান রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। কুরআনের শাসনব্যবস্থা কায়েম হলে শোষণমুক্ত, জনবান্ধব ও নাগরিক অধিকারসম্মত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে নৈতিকতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
রমজানকে ‘কুরআন বিজয়ের মাস’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বদরের প্রান্তরে এই মাসেই সত্যের বিজয় হয়েছিল। অতএব রমজানের শিক্ষা হলো—নিজেকে কুরআনের অনুসারী হিসেবে গড়ে তোলা এবং সমাজে কুরআনের ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শামিল হওয়া। আমাদেরকে কুরআনকে বিজয়ী করতে হবে—নিজ জীবনে, পরিবারে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বক্তব্যের শুরুতে জুলাইয়ের শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহীদদের স্মরণ করেন। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, এই শহীদদের প্রতি দায় থেকে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। অবিলম্বে বিএনপিসহ যারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে হবে।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে জনগণ হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করে তাঁর শাসনকে বৈধতা দিয়েছে। এইবারও জনগণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করেছে। জনগণের রায় কে অবশ্যই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি ভিত্তি দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক ও নগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান বলেন, শ্রমিক সমাজকে কুরআনের ন্যায়ভিত্তিক আদর্শ ধারণ করে শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফেডারেশনের নগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অধ্যক্ষ খায়রুল বাশার, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক চসিক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালী, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইসহাক, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, আইআইইউসির ট্রেজার অধ্যাপক ড.মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুর রহমান কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ বাহার, শিবিরের মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাঈনুল ইসলাম মামুন, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন লিয়াকত আক্তার সিদ্দীকি, মাওলানা মমতাজুর রহমান, অধ্যক্ষ জাকির হোসেন, মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাহমুদুল আলম, মোহাম্মদ ইসমাইল, ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইন, ফেডারেশনের দক্ষিণ জেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ নুর হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মোক্তার আহমাদ সিকদার, উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন আজাদ,সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইব্রাহিম চৌধুরী, টেরী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক চসিক কাউন্সিলর মাহমুদুল আলম, ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল আলীম ও নাজিম উদ্দীন প্রমুখ।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের নগর সহ-সভাপতি নজির হোসেন ও মকবুল আহম্মেদ ভূঁইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. শিহাব উল্লাহ ও অধ্যক্ষ আসাদ উল্লাহ আদিল, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জি. সাইফুল ইসলাম ও আইন সম্পাদক সাব্বির আহমেদ উসমানী প্রমুখ।
এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমের ব্যুরো চীফ, সিনিয়র সাংবাদিক, শিল্পপতি-ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিশিষ্টজনেরা এতে অংশগ্রহণ করেন।