আলমগীর আলম,পটিয়া।
পটিয়ার সঞ্জয় সেন।
পেশাগতভাবে তিনি চিকিৎসক নন, কোনো চিকিৎসাপ্রতি লষ্ঠানের সঙ্গেও চিকিৎসক হিসেবে তাঁর সংশ্লিষ্টতা নেই।
তবু দীর্ঘদিন ধরে গলায় মাছের কাঁটা আটকে যাওয়ার সমস্যায় পড়া অনেক মানুষ তাঁর কাছে ছুটে আসেন। স্থানীয়ভাবে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে ‘গলার কাঁটা নামানোর মানুষ’ হিসেবে। পটিয়া ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও মানুষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানা যায়।
সঞ্জয় সেনের দাবি, বিশেষ কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি বা চিকিৎসাবিদ্যার জ্ঞান দিয়ে তিনি এ কাজ করেন না। তাঁর ভাষায়, এটি তাঁর নিজের কোনো কৃতিত্ব নয়। তিনি তাঁর প্রয়াত বাবাজান শাহ আকবর আউলিয়া এবং শ্রদ্ধেয় মায়ের কথা স্মরণ করেন। এরপর তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী প্রার্থনা বা আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের গলার কাঁটা নেমে যায়।
তিনি বলেন, “আমি নিজেকে কখনো ডাক্তার মনে করি না। এ বিষয়ে আমার কোনো চিকিৎসক পরিচয়ও নেই। আমি শুধু আমার বাবাজান শাহ আকবর আউলিয়া ও শ্রদ্ধেয় মা জননীর কথা স্মরণ করি। আল্লাহর রহমতে অনেক সময় মানুষের গলার কাঁটা নেমে যায়।”
গলায় মাছের কাঁটা আটকে যাওয়া আমাদের দেশে খুবই পরিচিত একটি ঘটনা। বিশেষ করে মাছ খাওয়ার সময় অসাবধানতার কারণে শিশু থেকে বয়স্ক, যে কেউ এ সমস্যায় পড়তে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে কাঁটা ছোট হওয়ায় কিছু সময় পর অস্বস্তি কমে যেতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাঁটা গলার নরম টিস্যুতে আটকে থাকতে পারে। তখন ব্যথা, ঢোক গিলতে কষ্ট, রক্তপাত কিংবা অন্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে সঞ্জয় সেনের কাছে মানুষ যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে কৌতূহলেরও সৃষ্টি করেছে। কেউ তাঁকে মানবিক মানুষ হিসেবে দেখেন, কেউ আবার তাঁর কাজকে আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন। তাঁর কাছে আসা অনেক মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা অন্যদের জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিচিতজনের মাধ্যমে তাঁর নাম বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলেও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।
তবে গলায় কাঁটা আটকে গেলে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি। কাঁটা নামানোর জন্য অনেকে ভাতের বড় লোকমা, শুকনো রুটি, কলা কিংবা অন্য কোনো শক্ত খাবার গিলে ফেলার চেষ্টা করেন। এতে কাঁটা আরও গভীরে ঢুকে গিয়ে গলার ভেতরে ক্ষত তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
বিশেষ করে কাঁটা দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে, প্রচণ্ড ব্যথা হলে, রক্তপাত দেখা দিলে, শ্বাস নিতে সমস্যা হলে, লালা গিলতে কষ্ট হলে কিংবা বুকের দিকে ব্যথা অনুভূত হলে দ্রুত হাসপাতাল বা নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
সঞ্জয় সেন নিজেও নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় না দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বলেন। তাঁর কাছে আসা মানুষকে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়াও জরুরি। কারণ গলায় আটকে থাকা কাঁটা সবসময় একই ধরনের নয়। কোথায় আটকে আছে, কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে এবং কোনো ক্ষত তৈরি হয়েছে কি না, তা চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়।
সঞ্জয় সেনের গল্পের আরেকটি দিক হলো তাঁর মানবিক মানসিকতা। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন বলে জানান। অনেকেই তাঁকে অর্থের বিনিময়ের চেয়ে মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো একজন সহানুভূতিশীল ব্যক্তি হিসেবে দেখেন।
তাঁর কাজকে ঘিরে মানুষের বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতা থাকলেও এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। গলার কাঁটা নেমে যাওয়ার ঘটনাকে কোনো নির্দিষ্ট অলৌকিক শক্তির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ নেই। আবার মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আস্থাকেও অযথা অবজ্ঞা করার প্রয়োজন নেই। গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিশ্বাসের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
পটিয়ার মতো একটি জনপদে সঞ্জয় সেনের পরিচিতি তাই শুধু ‘গলার কাঁটা নামানোর মানুষ’ হিসেবে নয়, বরং মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা একজন মানবিক ব্যক্তিকে ঘিরে তৈরি হওয়া একটি সামাজিক গল্প হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তাঁর নিজের বক্তব্যেও কৃতিত্বের দাবি নেই। বরং তিনি বারবার তাঁর বাবা শাহ আকবর আউলিয়া ও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেন।
মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক গুণ। তবে মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও জরুরি। সঞ্জয় সেনের মতো যারা মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। গলার কাঁটা নামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে যেন কোনো রোগীর বড় ধরনের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা থাকা জরুরি।
মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন গল্প সমাজে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করে। আর সেই মানবিকতার সঙ্গে যদি স্বাস্থ্যসচেতনতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দায়িত্বশীল পরামর্শ যুক্ত হয়, তাহলে মানুষের উপকার আরও বেশি নিশ্চিত করা সম্ভব। সঞ্জয় সেনের ক্ষেত্রেও মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি এই সচেতনতার বিষয়টি সামনে রাখা সময়ের দাবি মানুষের কল্যানে যোগাযোগ ঠিকানা চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা উত্তর পশ্চিম হাইদগাঁও মরাখালের পাশে,
০১৮১৮৬৯৯১৪২
প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১ টা আবার বিকাল ৪ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চেম্বারে থাকেন, বিশেষ কোন জরুরি রোগী হলে ফোনের মাধ্যমে বাসায় ও সেবা দেওয়া হয়।