চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি: মোহাম্মদ আবদুল আলী
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার অবিভক্ত বৃহত্তর গুমান মর্দ্দনের কৃতি সন্তান, সমাজহিতৈষী ও বিশিষ্ট আইনজীবী মরহুম আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ ইয়াহইয়ার ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৬ মে পালিত হয়েছে।
১৯৩৪ সালের ২৭ অক্টোবর গুমান মর্দ্দন গ্রামে জন্মগ্রহণকারী ইয়াহইয়া শৈশব থেকেই মেধাবী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ছিলেন। তিনি রোসাঙ্গিরি স্কুল থেকে ১৯৫১ সালে ম্যাট্রিক পাস করে চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬১ সালে আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৪ সালে চট্টগ্রাম জেলা বারের সদস্য হিসেবে আইনজীবী জীবন শুরু করে তিনি দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ মানুষের আইনজীবী হিসেবে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন এবং গ্রামীণ বিরোধ আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে ১৯৬৪ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাঁর উদ্যোগে সড়ক, সেতু, কালভার্ট, বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য অসংখ্য টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়।
কৃষি উন্নয়নেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। খাল খনন, পানি নিষ্কাশন ও সমবায়ভিত্তিক সেচব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি “জায়তুন-ইয়াহইয়া ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট” প্রতিষ্ঠা করেন, যা এখনো সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
২০০৭ সালের ৬ মে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন মহল থেকে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এলাকাবাসী তাঁর কর্মময় জীবন ও অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছেন।