নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার নবগঠিত পহরচাঁদা ইউনিয়নের কৃতি সন্তান ও পহরচাঁদা ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্র হেলাল উদ্দিন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক ঘোষিত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০২০ এর জন্য চ‚ড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন তিনি। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ইউজিসি ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালের সমন্বিত ৪৬৯ জনের তালিকা প্রকাশ করে। এতে ২০২০ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে সেরা হিসেবে স্থান পেয়েছেন হেলাল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেলাল উদ্দিন পহরচাঁদা গ্রামের নুরুল হুদা ও শামশুন নাহার এর তৃতীয় সন্তান।
ছোটকাল থেকে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি ৮ম ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। ইউজিসি মেরিট স্কলারশিপ ২০২০ ও অর্জন করেন তিনি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্সে একই সিজিপিএ ৩.৯৩ পেয়ে ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট হন। বর্তমানে তিনি জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।
তাঁর অসাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন পহরচাঁদা ফাজিল মাদরাাসা প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ। পরিষদের সভাপতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফরিদুদ্দিন ফারুক বলেন, ‘তাঁর এ সাফল্যে আমরা প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ খুবই আনন্দিত। আমরা তার উজ্জ¦ল ভবিষ্যৎ কামনা করি।’
কার্যকরী সভাপতি আলহাজ হামিদ হোছাইন ও সাধারণ সম্পাদক ব্যাংকার আবু সুফিয়ান জানান, ‘আমরা তাঁর এ সাফল্যে গর্বিত। পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানাই।’
তাঁর চাচা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট নূর মোহাম্মদ জানান, ‘আমাদের পরিবারের পাশাপাশি পুরো পহরচাঁদা ও চকরিয়বাসী আজ আনন্দিত। আমার ভাতিজার জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।,
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সাল থেকে প্রবর্তিত এই পদকের প্রতিটিতে ৪.৫ গ্রাম স্বর্ণ (২২ ক্যারেট) ও ১০ গ্রাম রৌপ্য থাকে। খুব শীঘ্রই এ পদকটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে ইউজিসি।
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হওয়ার অনুভ‚তি জানিয়ে হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হওয়া আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন ও পরম আনন্দের মুহূর্ত। অনার্স প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারে ৪.০০-এর মধ্যে ৪.০০ পেয়ে প্রথম হওয়ার পর শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক সুব্রত সাহা স্যার বলেছিলেন, ‘তুমি চেষ্টা করলে তো প্রধানমন্ত্রী গোল্ড মেডেল পাবে।, সেই কথাই সেদিন আমার মনে একটি স্বপ্নের বীজ বুনেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে অনার্স ও মাস্টার্সে ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট হয়ে আজ সেই স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। এই অর্জন আমার বাবা-মা, শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও শুভাকাঙক্ষীদের ভালোবাসা, দোয়া ও অনুপ্রেরণার ফল। সবার কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া প্রার্থী।’