মোঃ কায়সার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।
আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নকলমুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র সচিবদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম কেন্দ্রগুলোয় বিশেষ নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল প্রতিরোধে কেন্দ্রের প্রবেশমুখে বুথ স্থাপনেরও নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। পরীক্ষাকালীন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইপিএস সংযোজনের নির্দেশনাও দেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করা যাবে না। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতিটি কক্ষে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) স্থাপন করতে হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও যেন পর্যবেক্ষণ ব্যাহত না হয়, সে জন্য বিকল্প হিসেবে আইপিএস ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
নকল প্রতিরোধের বিষয়ে নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ড. মিলন বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমরা পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এবারও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, শিক্ষকদের পূর্বেও আমি নিরাপত্তা দিয়েছি, এবারও দেব। আপনারা কোনো ভয় না পেয়ে নির্ভয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে পরীক্ষকদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, খাতায় যা লেখা থাকবে, কেবল সঠিক উত্তরের ভিত্তিতেই নম্বর দিতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেয়া যাবে না।
প্রশ্নপত্র ফাঁসকে গুরুতর অপরাধ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।
আসন্ন পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিয়া মো. নুরুল হক এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী।