মনিরুল ইসলাম রিয়াদ স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানার বহুল আলোচিত বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আশফাক কবির সাজিদ হত্যা মামলার পলাতক আসামি রানা প্রকাশ মাইকেল রানা ও তার এক সহযোগীকে পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র্যাব-৬, খুলনার যৌথ আভিযানিক দল।
নিহত আশফাক কবির সাজিদ (১৭) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার দাতিনাথালীপাড়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে। তিনি বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। লেখাপড়ার সুবাদে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর ডিসি রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায়
থাকতেন।
র্যাব জানায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ বিকেলে সাজিদ তার বন্ধু ফারদিন হাসানের সঙ্গে বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় দেখা করেন। পরে তারা একটি টং দোকানের সামনে বসে কথা বলার সময় আইমন, অনিক, রানা প্রকাশ মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ, মিসকাতুল কায়েসসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন তাকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এক পর্যায়ে সাজিদ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে চকবাজার থানাধীন ডিসি রোডস্থ মৌসুমি আবাসিক এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের অষ্টম তলায় উঠে প্রধান গেইট বন্ধ করে দেন। পরে অভিযুক্তরা ভবনের দারোয়ানকে ভেতরে চোর ঢুকেছে বলে জানালে গেইট খুলে দেওয়া হয়। এরপর তারা ভবনের উপরে উঠে সাজিদকে মারধর করে অষ্টম তলার লিফটের খালি জায়গা দিয়ে নিচে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে চকবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
পরদিন নিহতের বাবা বাদী হয়ে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি থানার মহামুনি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ৩ নম্বর আসামি রানা প্রকাশ মাইকেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর ১৯ এপ্রিল রাত ২টা ৫৫ মিনিটে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র্যাব-৬, খুলনার যৌথ অভিযানে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার বড় খাজুরার হাট পূর্বপাড়া এলাকা থেকে মামলার ৪ নম্বর আসামি মো. ইলিয়াস (৪৬)-কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।