শহিদুল ইসলাম, প্রতিবেদক:
সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে যে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে নাগরিক জীবনে সাধারণ মানুষ যে কষ্ট ভোগ করছে তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, “চট্টগ্রাম দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধার স্থায়ী নিরসনের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল কোর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, বিদ্যুৎ , বন্দর কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদফতর ও জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত উদ্যোগ এবং কর্মপরিকল্পনা একান্ত আবশ্যক। আর তাই ফোরাম এই কথাটি বিগত প্রায় ১১ বছর ধরেই বলে আসছে।”
সম্প্রতি জলাবদ্ধতা বিষয়ে ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। এতে অংশ নেন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খালেদ, মহাসচিব মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, ওমান শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, গোলাফুর রহমান, এ কে এম ওসমান গণি, মনসুর আলম, কামরুল ইসলাম, কাজী মো. শহীদুল্লাহ, তসলিম খাঁ, শ ম জিয়াউর রহমান, মোহাম্মদ নূর, সেলিম পাটোয়ারী ও শহীদুল ইসলাম প্রমুখ ।
সভায় ব্যারিস্টার মনোয়ার বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মেগাপ্রকল্পের কাজ চলছে, অগ্রগতি হয়েছে অনেক। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণে নগরবাসী এই প্রকল্পের সফলতা চূড়ান্তভাবে দেখতে পারছে না।
তিনি আরো বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৫ সাল থেকে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের জনমত গঠন ও আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে তৎকালীন সরকার মেগা প্রকল্পের জন্য ২০১৭ সালে ৯০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। বর্ষাকাল আসার আগেই যেন চট্টগ্রাম মহানগরীর খাল এবং উপখালগুলির উনয়ন ও সংস্কার কাজ শেষ করা হয়, সেজন্য আমরা বারবার ফোরামের পক্ষ থেকে দাবি জানিয়ে আসছি। মেগাপ্রকল্পের কাজ সঠিক সময়ে শেষ করা।
এ বিষয়ের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ও সিটি করপোরেশনের, সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট টিম, সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে সমন্বয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে কনভেনশন করা হয়েছিল ফোরামের পক্ষ থেকে। সেখানে এসব প্রতিষ্ঠানের মেয়র, চেয়ারম্যান ও মেগা প্রকল্পের পরিচালকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সমন্বয় ও জবাবদিহিতার এখনো ঘাটতি রয়েছে।
ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খালেদ বলেন, বর্ষাকাল আসার আগেই যেন চট্টগ্রাম মহানগরীর খাল এবং উপখালগুলির উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ শেষ করা হয় সেজন্য আমরা বারবার নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে বলে আসছি। তিনি মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করার উপর জোর দিয়ে বলেন, “সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতার পর সরকার জলাবদ্ধতা ও উন্নয়ন কর্মকা- তদারকির জন্য বিষয়ে চট্টগ্রামের সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছেন এবং এতে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।” এ সময় তিনি সভায় উপস্থিত সকলের তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
ফোরামের মহাসচিব মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা, কালুরঘাট নির্মাণসহ বিবিধ ইস্যু নিয়ে ফোরাম ২০১৫ সাল থেকে সংগ্রাম করে আসছে। সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা সোচ্চার থাকব।” তিনি চট্টগ্রামবাসীর নাগরিক অধিকারের জন্য একক সংগঠন, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামকে শক্তিশালী করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় এক প্রস্তাবে মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে যেসব খালের কাজ চলছে সেগুলির বাঁধ খুলে দিতে হবে, তা না হলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করবে। এ ছাড়া মেগা প্রকল্পের কাজ কতটুকু হয়েছে তা জনগণকে জনগণকে অবগত করা হয়নি। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে মেগা প্রকল্পের এত কাজ করার পরও কোথায় কোথায় এখনো জলবদ্ধতা হচ্ছে, কেন হচ্ছে তা নিরসনের জন্য জলাবদ্ধতা চলাকালীন সময়ে সরজমিনে পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করে জরুরী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বরদ জানান। এছাড়া, জলাবদ্ধতা মেগাপ্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আহবান জানানো হয়।