মোঃ আবদুল আলী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় পরিচালিত স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সেন্টারের সেবা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন কিডনি রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। চুক্তি নবায়ন না হলে ২৭৬ জন কিডনি রোগীর নিয়মিত চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ডায়ালাইসিস সেন্টার (পিপিপি) রক্ষা কমিটি, চমেক হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন শুভ ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কিডনি রোগী কল্যাণ সংস্থার প্রতিনিধি মোঃ আবদুল আলী। কিডনি রোগীদের পক্ষে বক্তব্য দেন উৎপল দাশ ও তানভিন জান্নাত। অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের কালচারাল ফোর্স, চট্টগ্রামের সেক্রেটারি মোঃ নজরুল হোসেন শুকরিয়া।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৭ সালে পিপিপি প্রকল্পের আওতায় চমেক হাসপাতালে স্যান্ডরের মাধ্যমে ডায়ালাইসিস সেবা চালু হয়। বর্তমানে ৩১টি মেশিনের মাধ্যমে প্রায় ২৭৬ জন কিডনি রোগী নিয়মিত এ সেবা নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা পেয়ে আসা এসব রোগীর জন্য কেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা বলেন, কিডনি রোগীদের সপ্তাহে একাধিকবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে অনেক রোগী চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। এ অব¯’ায় ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হয়ে গেলে অসংখ্য রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্যান্ডরের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। এ সময়ে রোগীদের চিকিৎসা কীভাবে অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সেন্টারের সেবা অব্যাহত রাখা অথবা বিকল্প কার্যকর ব্যব¯’া গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা।
তাঁরা বলেন, ডায়ালাইসিসের খরচ ছাড়াও ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় বহন করতে হয় রোগীদের। তাই সরকারি ভর্তুকিসহ সাশ্রয়ী মূল্যে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, চিকিৎসাসেবাকে কেবল আর্থিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় হিসেবে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে হবে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া কিংবা নতুন ব্যবস্থা চালু করতে বিলম্বের কারণে কোনো কিডনি রোগী যেন চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সে জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
রোগীদের জীবন রক্ষায় চমেক হাসপাতালের বর্তমান ডায়ালাইসিস সেন্টারের সেবা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।