আলমগীর আলম, পটিয়া।
জীবনের ৮০টি বছর পেরিয়েও থেমে নেই পটিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুস শুক্কুর। বয়সের ভার শরীরে, তবুও পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর কর্মের প্রতি নিষ্ঠা তাকে প্রতিদিন নতুন করে পথ চলার শক্তি জোগায়।
ছোটবেলা থেকেই কঠোর পরিশ্রম করে তিলে তিলে নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে পরিবারকে আগলে রেখেছেন, সন্তানদের মানুষ করেছেন এবং একে একে তাদের বিয়ে দিয়েছেন।
আবদুস শুক্কুরের বাবা মরহুম আবদুস মালেকও সারাজীবন চাকরির মাধ্যমে নিজেকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রেখেছিলেন। বাবার সেই মানবিক আদর্শই যেন ছেলের জীবনের পথচলার অনুপ্রেরণা।
মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, সুখ-দুঃখের খোঁজ নেওয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা তার জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে ৮০ বছর বয়সেও তিনি নিয়মিত পটিয়া থেকে সাতকানিয়া কোর্টে গিয়ে সেরেস্তাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন হাসিমুখে কর্মস্থলে যাওয়া, দায়িত্ব পালন করা এবং মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলাই তার নিত্যদিনের জীবন।
বয়স তাকে ক্লান্ত করেছে, কিন্তু মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছাকে ক্লান্ত করতে পারেনি।
আবদুস শুক্কুর বলেন, “ছোটকাল থেকেই মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে আসছি। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি, পরিবারের জন্য চেষ্টা করেছি। যতদিন বেঁচে থাকি, যা আছে তা নিয়েই মানুষের সেবায় এগিয়ে যেতে চাই। মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে আমার ভালো লাগে।”
তার নাতি ও প্রতিবেশী আলী কদর জীবন বলেন, “আবদুস শুক্কুর আমার নানা। তিনি সারাদিন কাজের পাশাপাশি মানুষের জন্যও কাজ করেন। এই বয়সে এসেও তার কর্মস্পৃহা, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ ও সহযোগিতার মানসিকতা সত্যিই বিরল। তিনি আমাদের পরিবারের জন্য যেমন ছায়ার মতো, তেমনি আশপাশের মানুষের কাছেও একজন আপনজন।”
স্থানীয়দের কাছে আবদুস শুক্কুর শুধু একজন প্রবীণ কর্মজীবী মানুষ নন, তিনি একজন সংগ্রামী পিতা, দায়িত্বশীল পরিবারের কর্তা এবং মানবিক হৃদয়ের একজন মানুষ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি থেমে যেতে চান না। তার বিশ্বাস, যতদিন শরীরে শক্তি আছে, ততদিন মানুষের জন্য কিছু করা সম্ভব।
নীরবে চলা এই মানুষটির জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা থাকলে জীবনের প্রতিটি সময়ই মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো যায়। আবদুস শুক্কুরের জীবন তাই পটিয়ার মানুষের জন্য এক নীরব অথচ উজ্জ্বল মানবিক দৃষ্টান্ত।