মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম রিয়াদ
স্টাফ রিপোর্টার
ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের উদ্যোগে এবং একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় SUSHIL Project (Supporting the Unity and Sustainability of Civil Society Organizations to Uphold Human Rights, National Integrity and Rule of Law in Bangladesh) এর আওতায় আজ মংগলবার ২৮ জুলাই সকালে চট্টগ্রামের এশিয়ান এস.আর. হোটেলে “রাষ্ট্রীয় অভ্যন্তরীণ নীতিমালা তৈরি ও সংশোধনে নাগরিক সমাজের অন্তর্ভুক্তির প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিতকরণ” বিষয়ক জেলা পর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রধান নির্বাহী জনাব উৎপল বড়ুয়া। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একশনএইড বাংলাদেশের সুশীল প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মৌসুমী বিশ্বাস, সুশীল প্রকল্পের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়কারী রিদুয়ানুল হাকীম রিয়াদ এবং একশনএইড বাংলাদেশের MEAL অফিসার রবিউল ইসলাম। কর্মশালাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন মৌসুমী বিশ্বাস ও রবিউল ইসলাম।
কর্মশালায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার ৩১টি তৃণমূলভিত্তিক সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনের (CSO) প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ডিজিটাল রাইটস, ডিজিটাল লিটারেসি, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, নীতিগত প্রতিবন্ধকতা, নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর অ্যাডভোকেসির কৌশল নিয়ে দলভিত্তিক আলোচনা করেন। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক ও অধিকারভিত্তিক ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সমাজের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়।
বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিএসও হাবের অ্যাডভাইজর, চট্টলার কণ্ঠের সম্পাদক ও সিটিজেন জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি কমল চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম সিএসও হাবের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ আজগরী সহ বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, ডিজিটাল বৈষম্য দূর করে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবাধিকারভিত্তিক ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে উৎপল বড়ুয়া বলেন, নাগরিক সমাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও সংস্কারে প্রতিফলিত হলে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং সুশাসন আরও শক্তিশালী হবে। তিনি ডিজিটাল অধিকার নিশ্চিত করতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালার সমাপনী বক্তব্যে সুশীল প্রকল্পের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়কারী রিদুয়ানুল হাকীম রিয়াদ বলেন, এই কর্মশালার সুপারিশসমূহ জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সংলাপে উপস্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল অধিকার, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও অংশগ্রহণমূলক ডিজিটাল গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে। তিনি কর্মশালার সার্বিক সমন্বয় ও সফল বাস্তবায়নে অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।