শিবলী আল সাদিক, দুবাই:
বর্ণাঢ্য আয়োজন, উৎসবমুখর পরিবেশ ও প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৬ সালের জন্য নির্বাচিত অনাবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) সিআইপিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুবাইয়ের দেইরায় ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত সিআইপিদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণি-পেশার শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি সরকারি প্রতিনিধি দল সফর করবে। সফরকালে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো প্রবাসী আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ালে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এতে রাষ্ট্রকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র, তাই দেশের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। ভিসাসহ আমিরাত প্রবাসীদের বিদ্যমান বিভিন্ন জটিলতা নিরসনেও সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।
দুটি পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, ইউএই-এর আহ্বায়ক মোহাম্মদ রুবেল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী এবং আমিরাতের সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ড. আব্দুল্লাহ সাঈদ আল খিন্দি। আরও উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ এবং দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা আলহাজ ইয়াকুব সৈনিক, হাজী মোস্তফা মাহমুদ, এনামুল হক চৌধুরী, মীর কামাল ও সিরাজুল হক নাওয়াব। এছাড়া সিআইপি আবুল বাশার, নিজাম উদ্দিন হাসান এবং মনজুরুল হক চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নৃত্য ও বিভিন্ন পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিদেশের মাটিতে ফুটিয়ে তোলা হয় বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য।
প্রবাসীদের সমস্যা, অর্জন ও অভিবাসন খাতের নানা বিষয় তুলে ধরতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দুই খ্যাতিমান অভিবাসনবিষয়ক সাংবাদিককে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন ‘দুনিয়ার গল্প’-এর সম্পাদক কেরামত উল্লাহ বিপ্লব এবং ‘আকাশযাত্রা’-এর সম্পাদক ইজাজ মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে ৮ জন ব্যবসায়ীকে উদ্যোক্তা সম্মাননা দেয়া হয়। তারা হলেন—বোরহান উদ্দিন চৌধুরী, এয়ার মামুন খান, এনামুল হক, সাইফুল মোস্তফা, মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস, শেফালী আক্তার আঁখি, আলহাজ ইয়াকুব সৈনিক ও আজিম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও সাংবাদিক শিবলী আল সাদিক। তিনি বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে সিআইপিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি প্রবাসী ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নির্বাচিত ৪১ জন সিআইপির হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। প্রবাসে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও দেশের অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে প্রবাসরত্ন নামের সিএপিদের জীবন বৃত্তান্ত নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশিত হয়,এই সংকলনটি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালাজিয়ার নামে উৎসর্গ করা হয়।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে প্রবাসী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।