নিজস্ব প্রতিবেদক
দেড়শো বছরের পুরোনো জমিদার বংশ। কালের পরিক্রমায় সেই বংশের উত্তরসূরিরা ছড়িয়ে পড়েছেন দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে। অবশেষে দীর্ঘ প্রায় ১২ যুগ পর ‘শিকড়ের টানে’ এক ছাতার নিচে মিলিত হলেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফতেহ আলী মাতবর চৌধুরী বাড়ির সদস্যরা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের খান্দানি এই জমিদার বংশের দেড়শো বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পারিবারিক মিলনমেলা ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শনিবার দিনব্যাপী পেকুয়া গোঁয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বসেছিল এই মিলনমেলা। ‘আসুন শিকড়ের টানে দৃঢ়তার বন্ধনে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন জমিদার বাড়ির নবীন-প্রবীণ সদস্যরা। সকালে খতমে কোরআন, মিলাদ মাহফিল ও ফতেহ আলী মাতবর চৌধুরী ও পরিবারের অপরাপর সদস্যদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। সকাল ১০টায় মেলার উদ্বোধন করেন সাইফুদ্দীন খালেদ। আয়োজকরা জানান, বংশের কৃতী সন্তানরা আজ দেশ-বিদেশের সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে আসীন। সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, আমলা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, আইনজীবী ও শিল্পীসহ নানা পেশার মানুষ এই পরিবারের অংশ। দীর্ঘকাল পর একে অপরের সান্নিধ্য পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকে।
দিনভর কবিতা আবৃত্তি, ছড়া পাঠ, কুইজ ও র্যাফল ড্রয়ের পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। দুপুরের ভোজের পর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই জমে ওঠে গানের আসর। পারিবারিক সদস্য ও চট্টগ্রাম বেতার-টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিল্পী ইকবাল হায়দার ও লায়েক হায়দারের পরিবেশনা মুগ্ধ করে সবাইকে। রাতে অতিথি ও উদীয়মান শিল্পীদের যৌথ পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। জমিদার বাড়ির নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি রিফাত জাহান মীরা, মাহিম চৌধুরী, আদিবুর রহমান জ্যুতি ও আদরের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন আনসারুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. নাছির মাহমুদ, আজহারুল ইসলাম চৌধুরী, মহসিন হায়দার, সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. আনিসুল মাওলা, সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান, গীতিকার ও সুরকার ইকবাল হায়দার, সরকারের যুগ্ম সচিব সাব্বির ইকবাল, লায়েক হায়দার, ইকবাল হুদা টাইডেল, নুরুল হাসান চৌধুরী, আহসান হাবিব দুলাল, আমান উল্লাহ ও নুরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ শামিম ইকবাল, সোহেল ইকবাল সুমন, শিল্পপতি রাহেদুল হায়দার চৌধুরী, কাবেদুর রহমান কচি, আতিকুর রহমান চৌধুরী, সিও খালেদ কিবরিয়া, খালেদ নেওয়াজ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম গুন্দু, প্রকাশক ও সম্পাদক মঈনুল হোসেন পলাশ, শিক্ষক কায়কোবাদ চৌধুরী, জুবায়ের ওয়ারেচী, আরজিবুল জেব্রিস চৌধুরী, রাজনীতিবিদ ও সমাজ সংগঠক এস,এম,আনিসুর রহমান ওয়ারেচী, আমির খসরু চৌধুরী রাসেল, ও রোমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন সেজিম বাদশাহ চৌধুরী, আজিজুল হক চৌধুরী রিপন,অ্যাডভোকেট সেলিম বাদশা চৌধুরী, মো. সোহরাব চৌধুরী ও মশিউর রহমান চৌধুরী মিন্টু। বংশের প্রবীণরা জানান, দেড়শো বছর পর এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।