সংস্কৃতি মানুষের মানসিক বিকাশ, পারস্পরিক মেলবন্ধন এবং সামাজিক অগ্রগতিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। সাংস্কৃতিক চর্চা মানুষের কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়, যা ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গত ২৩ মে (শনিবার) বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে "নান্দনিক চট্টলা" কর্তৃক আয়োজিত "ছায়াছন্দ" নামক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের ডীন প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম। নান্দনিক ও জমকালো এই আয়োজনে একই সাথে গুণীজন সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
নান্দনিক চট্টলার উপদেষ্টা, লেখক ও সমাজচিন্তক এবং অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘মিস বাংলাদেশ টপ টেন’ অনন্যা চৌধুরী কোয়েনা। অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার খাইরুল মোস্তফা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: কাজী সাহাব উদ্দিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, রুহি মোস্তফা পরিচালক, উইম্যান চেম্বার এ আর কামরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠাতা, আমাদের আলোকিত সমাজ মোঃ কামরুল কায়েস চৌধুরী চেয়ারম্যান, পিস ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস, আব্দুল নুর সভাপতি, আশার আলো মানবিক ফাউন্ডেশন এছাড়াও সংগঠনের উপদেষ্টা আবু তাহের চৌধুরী, জসীম উদ্দিন চৌধুরী, রুহুল আমিন সালমানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
গুণীজন ও সমাজসেবীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন: ভি আই পি টাওয়ার শপিং মল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রাশেদ চৌধুরী, আশার আলো মানবিক ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ মাইন উদ্দীন, এস আর সল্যুশনের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সিকদার, বেষ্ট মেকওভার ট্রেনিং অর্গানাইজার মায়মুনা দিয়া, সংগীত শিল্পী ইকবাল পিন্টু, সংগীত শিল্পী পিংকি, সংগীত শিল্পী মোঃ সেলিম এবং সংগীত শিল্পী ইন্দ্রিলা ঘর্জা।
হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও সুস্থ সংস্কৃতির আহ্বান প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহীত উল আলম আরও বলেন, আমাদের সংস্কৃতি আমাদের জীবনধারার বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে সুশৃঙ্খল, আনন্দময় ও সহানুভূতিশীল করে তোলে। এটি সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখে এবং সব ধর্মের ও বর্ণের মানুষকে এক কাতারে নিয়ে আসে, যা ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করে। সংস্কৃতি এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ইতিহাস, জ্ঞান ও চেতনা হস্তান্তর করে, যা মানুষের শেকড় ও আত্মপরিচয়কে টিকিয়ে রাখে।
সভাপতির বক্তব্যে কামরুল ইসলাম বলেন, ছায়াছন্দ নামটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এটি মূলত বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সম্প্রচারিত অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী একটি চলচ্চিত্রভিত্তিক অনুষ্ঠান ছিল। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে এখন আর আগের মতো ছায়াছন্দ দেখা যায় না। বিশ্ব চলচ্চিত্রের পাশাপাশি আমাদের চলচ্চিত্রও একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মানসম্মত সিনেমার অভাব, বিনিয়োগ সংকট ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তাসহ নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভালো গান ও চলচ্চিত্র মানুষের মন ও মস্তিষ্কে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, মানসিক চাপ কমায় এবং একাগ্রতা বাড়ায়। এই ধরনের আয়োজন সামাজিক অবক্ষয় রোধে এবং যুবসমাজকে মাদক ও নানা অপকর্ম থেকে দূরে রাখতে অনন্য ভূমিকা রাখবে। তিনি অনুষ্ঠানের সফল রূপকার ইলিয়াছ রিপনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
আলোচনা ও সংবর্ধনা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সোমা মুৎসুদ্দি, জান্নাতুল রাহা ও ইমন কুমার ধর জিতুর একক নৃত্যের পাশাপাশি দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে ‘রঙ্গনাট্য নৃত্যাঞ্জলী’, ‘অনুষিকা নৃত্যালয়’ নৃত্য পরিচালনায়: ঋষিকা মহাজন নদী এবং ‘মাধুরী নৃত্যকলা একাডেমি’ নৃত্য পরিচালনায়: সূচনা বণিক। এছাড়া ঋষিকা মহাজন নদী ও বায়েজিদ আক্তার হিমুর দ্বৈত নৃত্য এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসনান সামরাসহ স্বনামধন্য শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রমোট একাডেমির পরিচালনায় এবং কোরিওগ্রাফার লিটন দাশ লিটুর নির্দেশনায় একটি আকর্ষণীয় ফ্যাশন শো-ও অনুষ্ঠিত হয়।
পরিশেষে, সভাপতি কামরুল ইসলাম সুন্দর এই আয়োজনে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।