গত ১৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ শাহজাহান তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মোঃ জায়হান নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পটিয়া থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে এবং সারা দেশে বেতার বার্তার মাধ্যমে শিশুটির সন্ধান চাওয়া হয়।
নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারের লক্ষ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পটিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ আভিযানিক টিম গঠন করা হয়। টিমগুলো শিশুটির আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক অনুসন্ধান পরিচালনা করে। অনুসন্ধান চলাকালে শিশুটির পরিবারের বসতঘরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির রেখে যাওয়া মুক্তিপণ ও হুমকিমূলক একটি চিরকুট উদ্ধার হয়, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করে।
চিরকুটটির লেখা বিশ্লেষণ, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন আলামত এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করে।
সাদিয়া সুলতানা নিহা (১৯)- পিতা- সাইফুদ্দিন, পটিয়া শেভরন হাসপাতালে নার্স হিসেবে কাজ করতেন। পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ শাহজাহান সাদিয়া সুলতানা নিহা (১৯) এর প্রতিবেশী বড় ভাই হয়। একপর্যায়ে সাদিয়া সুলতানা নিহা (১৯ এর হাতের লেখার সঙ্গে উদ্ধারকৃত চিঠির লেখার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীতে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটিত হয়।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের দেখানো মতে ১৮ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ৩:২০ ঘটিকায় তাদের বসতঘরের পেছনে নর্দমার ময়লার মধ্যে লুকিয়ে রাখা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার শেষে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতপূর্বক ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।