মোহাম্মদ আবদুল আলী :
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল নামমাত্র ২৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিন এখানে ৬৫০ থেকে ৮৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে অনেককে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়, যা দীর্ঘদিনের একটি বাস্তবতা।
হাসপাতালে সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ২৫০ জন রোগীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে ভর্তি রোগীর সংখ্যা তার কয়েকগুণ বেশি। ফলে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। একই সঙ্গে জনবল সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সীমিত সংখ্যক সরকারি ওয়ার্ডবয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, হাসপাতাল পরিচালনায় সহায়তার জন্য আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত প্রায় ৮০ জন কর্মচারী দীর্ঘ ৮-১০ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এরপরও তারা সেবাকার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনবল স্বল্পতার কারণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে অপসারণের ঘটনায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা, জনবল সংকট, বাজেট ঘাটতি ও নতুন ভবন চালুর জটিলতা সমাধান না করে শুধুমাত্র একজন কর্মকর্তাকে দায়ী করলে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে না।
সূত্র জানায়, হাসপাতালের নতুন ৫০০ শয্যার ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ, লিফট স্থাপন, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জটিলতায় ভবনটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
সচেতন মহল মনে করেন, হাসপাতালটিকে দ্রুত ৫০০ থেকে ১০০০ শয্যায় উন্নীত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া, আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করা এবং নতুন ভবন দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
তাদের মতে, সমস্যার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান বাস্তবায়নই রোগীদের জন্য প্রকৃত সুফল বয়ে আনতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।