‘বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষমতা তৈরি করে’
শিক্ষার্থীদের যুক্তিতে শাণিত করা এবং তাদের আরও বেশি যুক্তিবাদী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত বিতর্ক কর্মশালার সমাবর্তন অনুষ্ঠান আজ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির আয়োজনে ও লায়ন ক্লাব অব চট্টগ্রাম বাকলিয়ার সহযোগিতায় এই কর্মশালায় পটিয়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এর কর কর্মকর্তা লায়ন একেএম সালাউদ্দিন এমজেএফ, আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহা, জেলা দায়র জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী জয় দত্ত বড়ুয়া, ব্যাংক এশিয়ার ফার্স্ট এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুজিবুর রহমান মনি, বাংলাদেশ ব্যাংক এর সহকারী পরিচালক সিরাজুল মোস্তাফা, প্রত্যয় এর নির্বাহী সদস্য এস এম হারুনুর রশীদ, সিনিয়র সদস্য এরশাদ হোসাইন।
প্রত্যয়ের সিনিয়র সদস্য নীহারিকা পাল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ ফারুক রবি। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট নয়। নিজেকে সময়োপযোগী ও যোগ্য করে তুলতে পাঠ্যক্রমের বাইরেও নানা বিষয়ে জানার এবং দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তা, যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার সক্ষমতা তৈরি করে।
লায়ন একেএম সালাউদ্দিন বলেন, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব ক্ষেত্রেই যৌক্তিক চিন্তার চর্চা বাড়ানো জরুরি। আবেগ বা অনুমানের ভিত্তিতে নয়; বরং যুক্তি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই টেকসই সমাধান সম্ভব। বিতর্ক কর্মশালাকে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ দিয়ে শোনার অভ্যাস এবং কার্যকরভাবে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।
এটিএম তোহা বলেন, সুন্দরভাবে কথা বলা এবং নিজের ভাবনা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে পারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র—সব জায়গাতেই যোগাযোগের দক্ষতা মানুষের সম্পর্ক ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। তাই বিতর্কচর্চা শুধু প্রতিযোগিতার জন্য নয়; বরং নিজেকে যুক্তিবাদী ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম।
কৃতি বিতার্কিক মুজিবুর রহমান মনি বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যুক্তি বিশ্লেষণ, উপস্থাপন এবং মতভেদকে সহনশীলভাবে গ্রহণ করার শিক্ষা পায়। পরাজয়কে হাসিমুখে মেনে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনে পরাজয় মেনে নিতে শেখা গেলে সমাজের অনেক সংকটের সমাধান সম্ভব। তাঁর ভাষায়, বিতর্কের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ভিন্নমতকে সম্মান করা এবং যৌক্তিকতার মাধ্যমে সত্যকে অনুসন্ধান করা।
জয় দত্ত বড়ুয়া বলেন, শুধু বিতর্কের মঞ্চেই নয়, বাস্তব জীবনেও জ্ঞানচর্চা ও গভীর পাঠাভ্যাস জরুরি। তিনি বই পড়া, বিশ্লেষণী চিন্তা ও দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কথার শক্তি যেমন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, তেমনি বিভক্তও করতে পারে। তাই তরুণদের জ্ঞান, যুক্তি ও ইতিবাচক চিন্তার আলো দিয়ে সমাজ ও বিশ্বকে আলোকিত করার আহ্বান জানান তিনি।
অতিথিরা ১ মাস ব্যাপী কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সনদপত্র প্রদান করেন। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহে প্রদর্শনী সনাতনী বিতর্ক ও বারোয়ারী বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।