আলমগীর আলম, পটিয়া।
বাংলা পুঁথি সাহিত্যের অমর গবেষক, সংগ্রাহক ও সাহিত্যিক মুন্সী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পটিয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে পটিয়া পৌরসভার সুচক্রদণ্ডী গ্রামে সাহিত্যবিশারদের মাজারে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সাহিত্যবিশারদের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন পরিষদ, সাহিত্যবিশারদ স্মৃতি সংসদ, পটিয়া গৌরব সংসদ ও সৃজনশীল সাহিত্য গোষ্ঠী মালঞ্চের নেতৃবৃন্দ এ সময় মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যবিশারদ স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সৈয়দ, পটিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্যবিষয়ক লেখক এস কে জাহাঙ্গীর আমীরি, পটিয়ার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক অভিজিৎ বড়ুয়া মানু, পটিয়া গৌরব সংসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট কবিশেখর নাথ পিন্টু, সৃজনশীল সাহিত্য গোষ্ঠী মালঞ্চের সভাপতি অধ্যাপক অজিত মিত্র, সাধারণ সম্পাদক শিশু সাহিত্যিক ও সাংবাদিক শিবুকান্তি দাশ, অধ্যাপক ভগীরথ দাশ, গফরুল মনু, রনি দে ও শ্যামল ভট্টাচার্য।
এ সময় সাহিত্যবিশারদ পরিবারের সদস্য জাহিদুল ইসলাম আকাশও উপস্থিত ছিলেন।
মুন্সী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ১৮৭১ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ার সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রাচীন বাংলা পুঁথি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, সম্পাদনা ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখেন। মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের বহু দুর্লভ পুঁথি সংগ্রহের মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর সংগৃহীত পুঁথির সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রামের পণ্ডিতসমাজ তাঁকে ‘সাহিত্যবিশারদ’ এবং নদীয়ার পণ্ডিতসমাজ ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধিতে ভূষিত করে। প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের হারিয়ে যেতে বসা পুঁথি সংগ্রহ ও গবেষণার মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সংরক্ষণ করে গেছেন।
১৯৫৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিজ জন্মভূমি সুচক্রদণ্ডীতেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।
প্রতিবছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে পটিয়ার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠন তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বক্তারা বলেন, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ শুধু পটিয়ার নয়, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ। তাঁর সংগ্রহ ও গবেষণার কারণে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন পুঁথি ও মধ্যযুগীয় সাহিত্য-ঐতিহ্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সংরক্ষিত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন, কর্ম ও গবেষণার অবদান তুলে ধরতে আরও ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।