পটিয়া প্রতিনিধি
পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নে কলা চুরির প্রতিবাদ ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ তোহা (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজীর পাড়া নতুনবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ তোহা ওই এলাকার মৃত আবুল বশরের ছেলে।
তিনি পটিয়া অ্যাডভোকেট ক্লার্কস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে মোহাম্মদ তোহার বাড়ির গাছ থেকে কলা চুরির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে পাশের বাড়ির এজাহার মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল।
একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির জেরে এজাহার মিয়ার পরিবারের সদস্যরা মোহাম্মদ তোহাকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, হামলার সময় তাকে লোহার রড দিয়েও আঘাত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পটিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পটিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনতার সহায়তায় এজাহার মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৯)কে আটক করে।
তবে অভিযুক্ত পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শফিক উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে আটক করেছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
শনিবার সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পটিয়া আইনজীবী সমিতির পাঠাগার সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বলেন, মোহাম্মদ তোহা অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন।
আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি, যাতে তার পরিবার ন্যায়বিচার পায়।
এদিকে পটিয়া অ্যাডভোকেট ক্লার্কস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।