পটিয়া প্রতিনিধি।
‘মৎস্য চাষে সমৃদ্ধি, মাছের উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা’
—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পটিয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
পটিয়া উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, পোনামাছ অবমুক্তকরণ এবং শ্রেষ্ঠ পোনাচাষীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান।
এতে বক্তব্য রাখেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হকসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষী, পোনাচাষী, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে মৎস্যচাষী, মৎস্যজীবী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
পরে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যচাষীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি। প্রধান অতিথিসহ অতিথিরা নির্ধারিত জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির পোনামাছ অবমুক্ত করেন। এ সময় বক্তারা বলেন, পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্ত ও জলাশয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব।
পটিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ, পুকুরের সঠিক ব্যবস্থাপনা, পানির গুণগত মান বজায় রাখা, উন্নত জাতের পোনা ব্যবহার এবং মৎস্য রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তাদের মৎস্য চাষে উৎসাহিত করতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও প্রশিক্ষণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম এমপি বলেন, মৎস্য খাত দেশের অর্থনীতি ও মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পটিয়ায় মৎস্য উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাতকে আরও সম্প্রসারণ করা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
তিনি মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা ও স্থানীয় জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জলাশয় সংরক্ষণ, পানিদূষণ রোধ এবং মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, মৎস্যসম্পদ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষায় জলাশয় দখল ও দূষণ রোধ, অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধ এবং প্রজনন মৌসুমে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। মৎস্যচাষীদেরও আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য পটিয়ার সফল ও শ্রেষ্ঠ পোনাচাষীদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। অতিথিরা নির্বাচিত চাষীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। এ সময় আয়োজকরা বলেন, সফল মৎস্যচাষীদের স্বীকৃতি ও সম্মাননা প্রদান করলে অন্য চাষীরাও আধুনিক ও বাণিজ্যিকভাবে মাছ ও পোনা উৎপাদনে উৎসাহিত হবেন।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পটিয়ার এ আয়োজন মৎস্যচাষী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে পটিয়াকে দেশের একটি সমৃদ্ধ মৎস্য উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।