পটিয়া প্রতিনিধি
পটিয়ায় যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জাতীয় ছাত্র শক্তি পটিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে পটিয়া থানার মোড় চত্বরে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সংগঠনের নেতাকর্মী, নিহত দুই নারীর পরিবারের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্র শক্তি পটিয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম তৌকির, মুখ্য সংগঠক মিছকাত আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সাকিবুল ইসলাম সাকিব এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল্লাহ আশরাফুল (সিফাত)।
বক্তারা বলেন, যৌতুকের দাবিতে নারীর ওপর নির্যাতন এবং এর ফলে প্রাণহানির ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিয়ের মতো একটি সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনকে যৌতুকের লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত করে নারীর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যৌতুকের কারণে নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন এবং নারীর মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তারা আরও বলেন, পটিয়ায় দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। এসব ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তসাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা বলেন, যৌতুক শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়, এটি নারীর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বিয়েতে যৌতুক দেওয়া ও নেওয়ার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার নারীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা যৌতুকপ্রথা বন্ধ, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
বক্তারা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। কোনো পরিবার যেন যৌতুকের কারণে নির্যাতন কিংবা আপনজন হারানোর বেদনার শিকার না হয়, সে জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।