আলমগীর আলমঃ
শীতের পরশ চারিদিকে কোয়াঁশায় ভরপুর হচ্ছে
দিন দিন বাড়ঁছে শীত পরশ।
গ্রামের কেঁজুর গাছে কেঁজুরের রস আহা কি যে আনন্দ।
মানুষের শৈশব কৈশোর কতই না মধুর হয় যা কখনো ভুলার নয়।
পটিয়া পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বৌলতলী রোডের দান বক্সের পাশ্বে বিসমিল্লাহ ভবনে নুরুল হকের ৫ তলার ছাদে তারই প্রথম কন্যা পটিয়া খলিলুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের
২য় বর্ষের ছাত্রী মুশফিকা ইমরোজ কাইফার নিজ উদ্যোগ এ ভিবিন্ন ফল ও সবজির বাগান আশেপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে এবং সবজি চাষে আশার আলো জাগিয়েছে।
ঋতু পরিবর্তনের ফলে গত বছর বৃষ্টি ও বন্যায় অনাবাদি জমি পানিতে থলিয়ে চাষাবাদ কম হওয়ায় সকল সবজির দাম অনেক বেশি। শীত মৌসমে সবজির চাষ ভাল হলেও ছড়া দামে কিনতে হচ্ছে সবজি,
এ সময়ে মুশফিকার ছাঁদ বাগানের সবজি ও নানা জাতের ফল চাষ সত্যিই প্রসংশনীয় উদ্যোগ বলে মনে করছেন পটিয়া খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজ এর সাবেক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু তৈয়ব।
তিনি বাড়ীর ছাঁদের এ বাগান করায় তার ছাত্রী মুশফিকাকে ধন্যবাদ জানান এবং সেখানে চাষকৃত শাক মাল্টা,আম,পেপে,পেয়ারা কমলা লেবু,বেগুন, কাচা মরিচ,লাউসহ নানা জাতের ফল চাষের কথা শুনে মুগ্ধ হন তিনি।
পটিয়ার প্রতিটি বাড়ীর আঙিনায় ও ছাঁদ বাগানে সবজি ফল চাষ করে সাবল্যম্বী এবং দূর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা হবে বলে আশা প্রকাশ করে মুশফিকা ইমরোজ কাইফা বলেন আমি শখের বসে ছাঁদে এ বাগান করেছি এখানে আরও নানা-জাতের সবজি ও ফল চাষ করা হবে সবুজ বাড়ীর ছাঁদ এবং সবুজ দেশ আমার ভাল লাগে আমি সকলকে এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।
বাড়ির ছাঁদে ফলের বাগান সফলা/কামরাঙা চাষে সম্ভাবনা বেশি।
মানুষের জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে অনেকেই বাড়ির ছাঁদে ফলের বাগান গড়ে তুলছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ছাঁদে সফলা বা কামরাঙা চাষ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে এসেছে।
কম জায়গায় বেশি ফলন, সহজ পরিচর্যা এবং পুষ্টিগুণের কারণে সফলা শহুরে বাগানপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
সফলা গাছ মাঝারি আকারের চির-সবুজ গাছ। এটি বড় টব বা ড্রামে খুব সহজেই বেড়ে ওঠে।
গাছের মূল ব্যবস্থা খুব বেশি বিস্তৃত নয়, ফলে ছাঁদের গার্ডেনে রোপণের জন্য এটি দারুণ উপযোগী।
নিয়মিত রোদ, পর্যাপ্ত পানি এবং সামান্য সার প্রয়োগেই সফলা গাছ সুস্থ ও সবলভাবে বৃদ্ধি পায়।
এতে টব/ড্রাম নির্বাচন কমপক্ষে ১৮–২৪ ইঞ্চি ব্যাসের ড্রাম ব্যবহার করা ভালো।
মাটির মিশ্রণ: বাগানের মাটি ৪০%, গোবর সার ৩০%, ঝুরঝুরে বালুমাটি ২০% এবং কোকোপিট/কম্পোস্ট ১০% মিশিয়ে নিলে গাছ দ্রুত বাড়ে।
চারা নির্বাচন করতে হবে অনেক ভাল থেকে গ্রাফটেড বা কলম করা সফলার চারা দ্রুত ফল দেয় এবং রোগ কম হয়।
প্রতিদিন কমপক্ষে ৬–৭ ঘণ্টা রোদ নিশ্চিত করতে হবে।
পানি: মাটি শুকিয়ে এলে পানি দেওয়া উচিত।
পানি জমে থাকা ঠিক নয়।
সার: প্রতি ৩০–৪৫ দিনে একবার জৈব সার বা তরল সার প্রয়োগ করা ভালো।
ছাঁটাই: বাড়তি ডালপালা ছেঁটে দিলে গাছ ঝোপালো হয় এবং ফলন বাড়বে।
কৃষি বিষয়ক কর্মশালায় অংশ গ্রহণ করার মাধ্যমে আরও অনেক সফলতা অর্জন করতে সকলকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসা দরকার বলে মনে করেন পরিবেশ বিষয়ক সংগঠক সৈয়দ মিয়া হাসান।
উপযুক্ত পরিচর্যায় কলমের সফলা গাছ সাধারণত ১.৫–২ বছরের মধ্যেই ফল দিতে শুরু করে। ছাঁদে একটি পরিপূর্ণ সফলা গাছ বছরে ১৫–২৫ কেজি পর্যন্ত ফল দিতে পারে। সফলার ফল ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং মিনারেলে সমৃদ্ধ, যা স্বাস্থ্যর জন্য অত্যন্ত উপকারী।
সৌন্দর্য ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ
সফলা শুধু ফলই দেয় না, বরং ছাঁদকে শোভাময় করে তোলে। সবুজায়ন বাড়িয়ে ছাঁদের তাপমাত্রা কমায়, যা বাড়ির পরিবেশও শীতল রাখে। শহরের ক্রমবর্ধমান দূষণ মোকাবিলায় এই ধরনের ছাঁদবাগান পরিবেশবান্ধব এক উদ্যোগ।