আলমগীর আলম।
পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকায় লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
বাজারভেদে হালি প্রতি ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। কিছুদিন আগেও যে লেবু হালি ১০ থেকে ২০ টাকায় পাওয়া গেছে, সেটিই এখন কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় রোজাদারদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
রমজানে ইফতার ও সেহেরিতে তৃষ্ণা নিবারণে লেবুর ব্যবহার বেশি হওয়ায় এ সময়টাতে চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। শরবত, সালাদ ও বিভিন্ন খাবারে লেবু অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে মাসের শুরুতেই চাহিদা বাড়ার সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করতে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পটিয়ার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বিক্রেতারা বলছেন পাইকারি বাজারেই দাম বেশি।
তাদের দাবি, উৎপাদন এলাকা থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে ক্রেতাদের ভাষ্য, রমজান এলেই কিছু পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো একটি পুরোনো প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি জোরদার না হলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।
স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা জানান, ইফতারের সময় এক গ্লাস লেবুর শরবত যেন স্বস্তির প্রতীক।
কিন্তু বর্তমান দামে প্রতিদিন লেবু কেনা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় বড় চাপ তৈরি করছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, মৌসুমি পরিবর্তন, আবহাওয়ার প্রভাব এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বাজারে এমন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত তদারকি থাকলে হঠাৎ করে কয়েক গুণ মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব।
ভোক্তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। রমজানের মতো সংযম ও সহমর্মিতার মাসে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের প্রবণতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।