পটিয়া প্রতিনিধি।
পটিয়ার আলোচিত পাঁচ বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ জায়ান আবরার অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। মামলার প্রধান আসামি সাদিয়া সুলতানা নিহা (১৯) তিন দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) পটিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক মো. শাখাওয়াত হোসেন তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পটিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, অপহরণের নাটক সাজানো এবং মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে পুরো ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তদন্তে জানা যায়, গত ১৬ জুন দুপুরে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু জায়ান। পরে বিকেলে পরিবারের শয়নকক্ষ থেকে হাতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। ওই চিরকুটে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ এবং পরিবারের একটি মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে ঘটনাটি অপহরণ হিসেবে ধারণা করা হলেও তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য সামনে আসে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যার পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনের আওতার বাইরে কাউকে রাখা হবে না।
তিনি আরও বলেন, তদন্তের প্রতিটি দিক সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।
এর আগে গত বুধবার চট্টগ্রামের আদালতে প্রধান আসামি সাদিয়া সুলতানা নিহা, তার বাবা মো. সাইফুদ্দিন এবং মা শাহনুর আক্তারকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পটিয়া থানা পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত নিহার তিন দিনের এবং তার বাবা-মায়ের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশুর বাবা মো. শাহজাহান বাদী হয়ে পটিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি নিহা, তার বাবা-মাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, শিশু জায়ান হত্যাকাণ্ডে পুরো পটিয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকায় এখনো স্বজনদের আহাজারি চলছে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে।