পটিয়া প্রতিনিধি
পটিয়া পৌরসভা এলাকায় স্থানীয় এক গ্যারেজ মালিকের ৫ বছর বয়সী শিশু সন্তান মো. জায়হানকে অপহরণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৬ জুন) দুপুর আনুমানিক ১২টার পর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অপহরণকারীরা শিশুটির বাবা শাহজাহানের উদ্দেশে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি হাতের লেখা চিরকুট রেখে যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলছিল শিশু জায়হান। দুপুর ১২টার পর তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় বাড়ির সামনের পুকুরেও তল্লাশি চালানো হয়। সেখানেও কোনো হদিস না মেলায় পরিবার প্রথমে পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা শাহজাহানের বাড়িতে ভিড় জমান। এ সময় বিকেল ৩টার দিকে ঘরের একটি বিছানার ওপর একটি হাতের লেখা চিঠি পাওয়া যায়।
ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িতে লোকজনের ভিড়ের সুযোগে অজ্ঞাতপরিচয় কেউ ঘরের সামনের কক্ষে বিছানার ওপর চিঠিটি রেখে যায়।
চিঠিতে শিশুর বাবা শাহজাহানকে উদ্দেশ করে লেখা হয়, “তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে। ছেলেকে পেতে চাইলে যা বলছি তা শুন। কোনো চালাকি করার চেষ্টা করিস না। পুলিশের কাছে গেলে ছেলের লাশ পাবি। বাইরের মানুষ যেন কিছু জানতে না পারে। তোর পরিবারের ওপর সবসময় নজর রাখা হচ্ছে। আধা ঘণ্টার মধ্যে ৩ লাখ টাকা এবং পরিবারের যেকোনো একজনের আনলক করা মোবাইল একটি ব্যাগে করে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতরে রেখে দিবি। এরপর পরিবারের সবাই ঘরে ঢুকে দরজা-জানালা বন্ধ করে দিবি। কোনো চালাকি করলে তোর ছেলেকে জীবনে আর খুঁজে পাবি না। মোবাইলটি তোর ছেলেকে তোকে দেখানোর জন্য লাগবে। আর মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি।”
চিঠিটি পাওয়ার পর পরিবার ও এলাকাবাসী নিশ্চিত হন যে শিশু জায়হানকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি পটিয়া থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
পটিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশু অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিছানায় পাওয়া চিঠিসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
এ ঘটনায় দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আদরের সন্তানকে দ্রুত ও নিরাপদে ফিরে পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।