আলমগীর আলম।
"মেজ্জান হায়লে আইয়োন"
"ওরশ বিরানী হাইলে আইয়োন"
চট্টগ্রাম ও পটিয়া জুড়ে মেজবানী ও ওরশ বিরানীর ব্যবসা এখন তুঙ্গে।
ঐতিহ্যবাহী এই খাবারের স্বাদ নিতে এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় ছুটে যাচ্ছেন খাদ্যরসিক মানুষ।
চট্টগ্রাম নগরীর পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, মইজ্জারটেক, পটিয়া, আনোয়ারা, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক মেজবান ও ওরশ বিরানীর দোকান।
দিন-রাত সমানতালে ক্রেতার ভিড় আর দোকানিদের মধ্যে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা।
আলী কদর জীবন নামে ব্যাংকার জানান, এখন দাম কম-বেশির চেয়ে খাবারের স্বাদই ক্রেতা টানার প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন দোকানের বিরানী বেশি সুস্বাদু, কোথায় মেজবানীর ঝোল ঘন—এমন আলোচনাই চলছে চায়ের আড্ডা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত।
অনেক দোকানেই প্রতিদিন কয়েক শ’ মানুষের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।
তবে এই জনপ্রিয়তার আড়ালেই দেখা দিয়েছে উদ্বেগজনক দিক।
অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত স্বাদ আনতে রান্নায় ক্ষতিকর কেমিকেল, কৃত্রিম রঙ ও অস্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহার করছেন।
এতে খাবারের স্বাদ সাময়িকভাবে বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি
চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের কেমিকেল মিশ্রিত খাবার নিয়মিত খেলে গ্যাস্ট্রিক, লিভার ও কিডনি জটিলতা, এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।
ভোক্তারা বলছেন, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি কম থাকায় অনেকেই নির্বিঘ্নে এসব অনিয়ম করে যাচ্ছেন। তারা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে খাদ্য নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মান যাচাই কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানী ও ওরশ বিরানী যেন স্বাদে যেমন অনন্য থাকে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিমুক্ত হয়—এটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সবাই সচেতন হলে এই জনপ্রিয় খাবারের সুনাম আরও অটুট থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শফিকুল ইসলাম বলেন সাপ্তাহে প্রায় বাচ্চাদের নিয়ে মেজবান অথবা ওরশ বিরানী খাওয়া হয় খাবারের মান নির্নয় করা অনেক কঠিন সংশ্লিষ্টরা যদি সঠিক তদারকির মাধ্যমে কাজ করেন তাহলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য মেজবান ও ওরশ বিরানী সারাদেশের সেরা খাবার হিসাবে খ্যাতি লাভ করবে তিনি পরিস্কার ও পরিচ্ছন্নভাবে রান্না করা এ খাবারের মান ধরে রাখার আহবান জানান।