পটিয়া প্রতিনিধি
পটিয়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও সার্বিক সেবার মান বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিয়মিত নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং স্টেশন চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগে আগের তুলনায় স্টেশনের পরিবেশ অনেকটা উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এতে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবদুস সালাম ভূঞা জানান, তিনি স্টেশনে যোগদানের পর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, স্টেশন চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, অতীতের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে পটিয়া রেলওয়ে স্টেশনকে নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে স্টেশনটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট টিমগুলোও কাজ করছে। যাত্রীদের নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
রেলওয়ের নাগরিক সনদ অনুযায়ী, স্টেশন ও ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিআরপি ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি স্টেশন চত্বরে সিসিটিভি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা নজরদারির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগকেন্দ্রগুলোর একটি। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ চালু হওয়ার পর এ স্টেশনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যাত্রী এ স্টেশন ব্যবহার করেন। ফলে যাত্রী নিরাপত্তার পাশাপাশি টিকিট ব্যবস্থাপনা, প্ল্যাটফর্মের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পটিয়া রেলপথ ঘিরে কয়েকটি ঘটনায়ও নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর পটিয়ার চক্রশালা এলাকায় কক্সবাজার এক্সপ্রেস একটি মিনি কাভার্ড ভ্যানকে ধাক্কা দিলে ট্রেনটির একটি কোচ লাইনচ্যুত হয়।
ওই দুর্ঘটনার তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবদুস সালাম ভূঞা।
এদিকে পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার রয়েছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হকের নেতৃত্বে পুলিশ নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। স্টেশন এলাকায় অপরাধ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্টেশন মাস্টার আবদুস সালাম ভূঞা আরও জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের অভিযোগ দ্রুত সমাধানের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পটিয়া রেলওয়ে স্টেশনকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও যাত্রীবান্ধব স্টেশন হিসেবে গড়ে তুলতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন শুধু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের একক দায়িত্ব নয়। স্টেশন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মাদক ও অপরাধ দমন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে যাত্রীদেরও নিয়ম মেনে চলা এবং কোনো অনিয়ম বা অপরাধ চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা জরুরি।
সচেতন যাত্রীদের প্রত্যাশা, পটিয়া রেলওয়ে স্টেশনে বর্তমানে যে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রীসেবামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করে স্টেশনটিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি আধুনিক ও নিরাপদ রেলস্টেশন হিসেবে গড়ে তোলা হবে।