পরিবার কিংবা স্বজনদের কোনো সন্ধান না মেলায় চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে উদ্ধার হওয়া সেই পরিচয়হীন বৃদ্ধা মায়ের স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইনী সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম বিভাগ।
আজ (রোববার) ওই বৃদ্ধাকে নগরীর অক্সিজেন এলাকার ‘শীতল ঝর্ণা বেওয়ারিশ মানবসেবা বৃদ্ধাশ্রমে’ নিরাপদ হেফাজতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর রাস্তা থেকে অত্যন্ত অসহায় ও অসুস্থ অবস্থায় এই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেছিলেন আসক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় দপ্তর সম্পাদক মো. সুজন।
পরবর্তী কয়েকদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে তাঁর পরিবারের সন্ধান করার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও কোনো স্বজনের দেখা না পাওয়ায় মানবিক কারণে তাঁর সুন্দর ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার স্বার্থে বৃদ্ধাশ্রমে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি।
হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে আসক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের দপ্তর সম্পাদক মো. সুজন বলেন, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি ওনার পরিবারকে খুঁজে বের করতে। পরিচয় না মেলায় ওনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আজ ওনাকে অক্সিজেন শীতল ঝর্ণা বেওয়ারিশ মানবসেবা বৃদ্ধাশ্রমে পৌঁছে দিয়েছি। সেখানে তিনি অন্তত খাবার ও সুচিকিৎসার নিশ্চয়তা পাবেন। সবাই এই অসহায় মায়ের জন্য দোয়া করবেন।
আসক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি লায়ন ফরহাদুল হাসান মোস্তফা বলেন, মানবিকতা ও মানুষের অধিকার রক্ষাই আমাদের সংগঠনের মূল ভিত্তি। রাস্তায় পড়ে থাকা এই অসহায় মায়ের কোনো পরিচয় না মেলাটা দুঃখজনক, তবে আমরা তাঁকে একা ফেলে দিতে পারি না। আসক ফাউন্ডেশন সবসময় সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করে। আমরা আশা করছি, বৃদ্ধাশ্রমে তিনি সম্মানজনক ও নিরাপদ পরিবেশে থাকতে পারবেন।
আসক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক এলেক্স রনি বলেন, আমরা শুধু আইনি সহায়তাই নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও মানুষের পাশে দাঁড়াই। দপ্তর সম্পাদক সুজন সাহেব যেভাবে এই মাকে উদ্ধার করেছেন, তা আমাদের সংগঠনের জন্য গর্বের। আমরা ভবিষ্যতেও চট্টগ্রামের যেকোনো প্রান্তে অসহায় মানুষের সেবায় এভাবে সাড়া দিতে প্রস্তুত আছি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মানবতার সেবায় আসক ফাউন্ডেশন সবসময় কাজ করে যাচ্ছে এবং এই বৃদ্ধার মতো সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য। বৃদ্ধাটিকে বৃদ্ধাশ্রমে হস্তান্তরের সময় আসক ফাউন্ডেশনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বৃদ্ধাশ্রমের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মানবতার এই অনন্য উদাহরণ স্থানীয় মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।