মোঃ মনিরুল ইসলাম রিয়াদ স্টাফ রিপোর্টার।
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দলিল নিবন্ধনের জন্য ২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ মঙ্গলবার দুপুরে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর একটি বিশেষ দল সেখানে ‘ফাঁদ’ (ট্র্যাপ) অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের আটক করে।
আটক অন্য দুজন হলেন পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের প্রধান সহকারী (হেড ক্লার্ক) ফারুক ইসলাম এবং উমেদার রূপন দাশ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের এক আইনজীবী তাঁর মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র (পার্টনারশিপ ডিড) নিবন্ধনের জন্য পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে জমা দেন। দলিলগুলোতে কোনো আইনি ত্রুটি না থাকার পরও সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান ও প্রধান সহকারী ফারুক ইসলাম চুক্তিপত্র দুটি আটকে রাখেন। পরবর্তীতে দলিল দুটি নিবন্ধন করে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁরা ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
ভুক্তভোগী আইনজীবী নিরুপায় হয়ে দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে অভিযোগ জানান এবং পরে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিম পাহাড়তলী কার্যালয়ে ওত পেতে থাকে।
আজ দুপুরে ঘুষের ২ লাখ টাকা লেনদেনের সময় দুদক টিম কার্যালয়ের ভেতর অভিযান চালায়। এ সময় সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, প্রধান সহকারী ফারুক ইসলাম এবং উমেদার রূপন দাশকে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়।
দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে সর্দ করা হবে। দুর্নীতি দমনে দুদকের এ ধরনের আকস্মিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।