বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক রেমিট্যান্সের ভূমিকা সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম, বিশেষ করে বান্দরবান জেলা, এখনও এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবাহের বাইরে রয়ে গেছে। দারিদ্র্যের হার বেশি হলেও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ এখানে অত্যন্ত সীমিত—যা একটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাকে সামনে আনে।
বিদেশে যেতে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক অর্থের অভাব, কারিগরি ও ভাষাগত শিক্ষার সংকট, বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির অনুপস্থিতি এবং দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা পাহাড়ি তরুণদের জন্য বড় অন্তরায়। যদিও জেলায় কার্যরত প্রায় ১৮টি ব্যাংক রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে, বাস্তবে এসব উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। কারণ, বিদেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা কম, প্রবাসী নেটওয়ার্ক দুর্বল এবং ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে বিদেশগামী কর্মসংস্থানের কার্যকর সংযোগ গড়ে ওঠেনি।
এই বাস্তবতা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন লক্ষ্যভিত্তিক ও সমন্বিত নীতিগত পদক্ষেপ। স্বল্প খরচে বিদেশযাত্রার ব্যবস্থা, বিশেষ প্রবাসী ঋণ, আন্তর্জাতিক চাহিদাসম্পন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রবাসী তথ্য ও রিক্রুটিং কেন্দ্র স্থাপন জরুরি। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের জন্য বিশেষ কোটা ব্যবস্থা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে রেমিট্যান্স অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করা কেবল ন্যায়ের প্রশ্ন নয়; এটি জাতীয় উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য।
ম্যানেজার অপারেশন
আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি বান্দরবান শাখা