বান্দরবান প্রতিনিধি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ যখন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তোলে, তখন কিছু মানুষ নিঃস্বার্থভাবে মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেন। এমনই একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট সংগঠক নুরুল আমিন চৌধুরী আরমান, যিনি সাম্প্রতিক বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেকের ঘরে চুলা জ্বলছে না, বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অসংখ্য মানুষ। এমন সংকটময় সময়ে কোনো প্রচারের আশায় নয়, বরং মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতে ছুটে চলেছেন নুরুল আমিন চৌধুরী আরমান।
নিজস্ব উদ্যোগে ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় তিনি রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে দুর্গত মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাচ্ছেন। কোথাও নৌকায়, কোথাও হেঁটে, আবার কোথাও ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে তিনি ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন। তার এই মানবিক কার্যক্রম স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
নুরুল আমিন চৌধুরী আরমানের মানবসেবার পথচলা আজকের নয়। শৈশব থেকেই তিনি তার পিতার কাছ থেকে মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেই শিক্ষা ও অনুপ্রেরণায় ছোটবেলা থেকেই অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যাস গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মানবিক চেতনা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
তিনি শুধু দুর্যোগকালেই নন, সারা বছরজুড়েই বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। অসচ্ছল পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান, এতিম ও দুস্থ মানুষের জন্য খাদ্য বিতরণ, অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে অসহায় পরিবারের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণসহ নানা উদ্যোগে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
শিক্ষা বিস্তারেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। প্রতিবছর ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ, বই, খাতা, কলম, স্কুলব্যাগ, স্কুল ড্রেস এবং খাবার বিতরণ করে থাকেন। অনেক শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার ব্যয়ভার বহন করেও তিনি নীরবে মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তার বিশ্বাস, শিক্ষিত প্রজন্মই একটি সুন্দর সমাজ ও উন্নত জাতি গঠনের প্রধান শক্তি।
বন্যাকবলিত এলাকায় তার উপস্থিতি দুর্গত মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনেক পরিবার জানান, কয়েকদিন ধরে তারা চরম খাদ্যসংকটে ছিলেন। এমন সময় নুরুল আমিন চৌধুরী আরমানের উদ্যোগে রান্না করা খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এমন দুর্যোগের সময় যারা মানুষের পাশে দাঁড়ান, তারাই প্রকৃত অর্থে সমাজের মানবিক নেতৃত্বের পরিচয় দেন।
নুরুল আমিন চৌধুরী আরমান বলেন, "মানবিকতা না থাকলে মানুষ হিসেবে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। আল্লাহ আমাকে যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করি। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো কোনো দয়া নয়, এটি আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন, তাহলে কোনো দুর্গত মানুষ না খেয়ে থাকবে না।"
তিনি আরও বলেন, "মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। এই কথাটি শুধু গান কিংবা স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। মানবিকতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তুলতে পারি।"
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে নুরুল আমিন চৌধুরী আরমানের মতো মানবিক মানুষদের উদ্যোগ সমাজের অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। মানবতার সেবায় তার নিরলস কাজ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, এমন প্রত্যাশা সকলের।