প্রতিবেদক, মহিউদ্দীন কাদেরঃ ১২ জুন ২০২৬, শুক্রবার বিকাল ৪টায় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বসতি’-এর উদ্যোগে ‘বসতি ও প্রকৃতি: জলবায়ু সংকট এবং চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারটি নগরীর জামালখানস্থ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এ সেমিনারটি মোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে এবং উম্মে কুলসুম তারিনের সঞ্চালনায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং চট্টগ্রামের বিদ্যমান পরিবেশগত সংকটসমূহ থেকে উত্তরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রারম্ভিক বক্তব্যে বসতির অ্যাক্টিভিস্ট খাঁন আয়্যুব সংগঠনটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। এরপর নির্ধারিত আলোচনা পর্বে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন (বিএইচআরও)-এর মহাসচিব এডভোকেট জিয়া আহসান চট্টগ্রাম শহরে অবৈধ নগরায়ন, পাহাড় কাটা, পাহাড়ি জমি দখল, সবুজ প্রকৃতি ধ্বংস এবং এ-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরেন।
সিআরবি রক্ষামঞ্চের মুখপাত্র ও ট্রেড ইউনিয়ন অ্যাক্টিভিস্ট রেজোয়ান আহমেদ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও উদ্বাস্তু মানুষের পুনর্বাসনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি নগরের ফুসফুসখ্যাত সিআরবিকে ঘিরে বিভিন্ন কুচক্রী ও ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘদিনের অপচেষ্টার ইতিহাস তুলে ধরে সিআরবি রক্ষায় পরিবেশসচেতন মানুষদের আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
এসডিজি ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এনভায়রনমেন্টাল অ্যাক্টিভিস্ট খাঁন মুহাম্মদ মুস্তফা সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই অঞ্চলে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পায়নের প্রভাবে পরিবেশের ওপর পড়া নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন।
সেন্টার ফর হেলথ ইনোভেশন রিসার্চ অ্যান্ড লার্নিং-এর নার্গিস আক্তার পরিবেশ-সহায়ক নগরায়নের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জি. আরিফ মাহমুদ ‘গ্রিন ট্যাক্স’-এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা ব্যক্তি ও সংগঠনসমূহকে মূল্যায়ন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানান।
লেখক ও বুদ্ধিজীবী মোকাররম হোসাইন চট্টগ্রাম শহরে উন্মুক্ত অবকাশ স্থানের স্বল্পতা, পাহাড়ের ওপর সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অবৈধ দখল এবং পরিবেশবিরোধী অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি ইকো-ফ্রেন্ডলি জীবনধারা গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।
প্রোগ্রামের গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা ও এনভায়রনমেন্টাল অ্যাক্টিভিস্ট হাসান মারুফ রুমী চট্টগ্রাম নগরের ভরাট হয়ে যাওয়া খালসমূহ পুনরুদ্ধারের দাবি জানান।
নির্ধারিত সময় শেষে সন্ধ্যায় আলোচনা-মুখর পরিবেশে বসতির অন্যতম উদ্যোক্তা খুবাইব হামদানের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেমিনারটির সফল সমাপ্তি ঘটে।