মোঃ মনিরুল ইসলাম রিয়াদ
স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চারটি মামলার পলাতক এক দুর্ধর্ষ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মোঃ শওকত আলী ওরফে শওকত (২৬)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মামলায় পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ কমিশনার (চকবাজার জোন) মোঃ তারিকুল ইসলাম, বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সোলাইমান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহম্মেদসহ বাকলিয়া থানার একটি চৌকস অভিযানিক টিম।
সোমবার দিবাগত রাত ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ইং রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে অভিযানিক টিমটি বাকলিয়া থানাধীন তক্তারপুল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় আলী স্টোর বিল্ডিংয়ের পেছনে নেক্কার বাড়ী, শতাব্দী টাওয়ারের পঞ্চম তলায় অবস্থিত তার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মোঃ শওকত আলী চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার আশরাফপুর মীর বাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোঃ ইদ্রিস মিয়া এবং মাতার নাম সালমা বেগম। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া থানার তক্তারপুল এলাকার আলী স্টোর বিল্ডিংয়ের পেছনে নেক্কার বাড়ী, শতাব্দী টাওয়ারের পঞ্চম তলায় বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত শওকত আলী বাকলিয়া থানার একাধিক মামলার এজাহারনামীয় ও তদন্তে প্রাপ্ত পলাতক আসামি। তার বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানার মামলা নং-০৩(০৪)২৬, মামলা নং-১১(০৪)২৬, মামলা নং-০৭(০৪)২৬ এবং মামলা নং-০২(০৭)২৫ এর ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তিনি কৌশলে স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকতেন। সর্বশেষ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রাতের অভিযানে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেফতারের পর তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে বাকলিয়া থানার রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামি শওকত আলীর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা রয়েছে। সেটি হলো সিএমপি’র বাকলিয়া থানার মামলা নং-২১(০৭)২৫। ফলে তার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নগরীতে অপরাধ দমন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেসব আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বাকলিয়া থানা পুলিশের এ অভিযানে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।