আলমগীর আলম, পটিয়া।
পটিয়া উপজেলার ১৯ নম্বর শোভনদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী।
বিএনপির দলীয় সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনে বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। এ লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছেন।
মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী পটিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব পদপ্রত্যাশী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া তিনি পটিয়া উপজেলা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা, পটিয়া সরকারি কলেজ ও চট্টগ্রাম আইন কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা এবং শোভনদণ্ডী ইউনিয়ন বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত।
ব্যবসায়ী হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আমার পিতা-মাতার আদর্শ, সাধারণ মানুষের দোয়া এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সহযোগিতাকে সঙ্গে নিয়ে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য কাজ করছি। আমি বিএনপির দলীয় সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে শোভনদণ্ডী ইউনিয়নকে একটি সুশৃঙ্খল, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।”
প্রভাবমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকার
নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী।
তাঁর মতে, ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার সবচেয়ে কাছের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান। তাই পরিষদের কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রভাব, পক্ষপাত কিংবা হয়রানির সুযোগ থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে প্রভাবমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করতে চাই। সাধারণ মানুষ যেন জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা গ্রহণ এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেব। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখব না। সবার জন্য সমানভাবে সেবা নিশ্চিত করাই হবে আমার লক্ষ্য।”
মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার পরিকল্পনা
বর্তমানে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন এই বিএনপি নেতা। শোভনদণ্ডী ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে সামাজিক সচেতনতা, পরিবারভিত্তিক দায়িত্ববোধ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আমার অন্যতম লক্ষ্য হলো শোভনদণ্ডী ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলা। এ জন্য তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে চাই। অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে।”
শিক্ষিত নেতৃত্ব ও পরিকল্পিত উন্নয়নের প্রত্যাশা
গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী জানান, তিনি এমকম ও এমবিএম ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর মতে, ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনায় শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সততা, দায়িত্ববোধ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি চাই, ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হোক। এলাকার রাস্তাঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। জনগণের মতামত নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই।”
তাঁর পরিকল্পনায় ইউনিয়ন পরিষদের সেবার মান উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা, নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়গুলোও রয়েছে বলে তিনি জানান।
নিরপেক্ষ নির্বাচন চান তিনি
নির্বাচনে জনগণ যেন স্বাধীনভাবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী। তাঁর মতে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন স্থানীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি। ভোটাররা যাতে কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি কিংবা প্রভাব ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমি চাই, জনগণ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। ভোটাররা যাঁকে যোগ্য মনে করবেন, তাঁকেই নির্বাচিত করবেন। নির্বাচনে জনগণের মতামতই হবে চূড়ান্ত। আমি মানুষের কাছে গিয়ে আমার পরিকল্পনা তুলে ধরতে চাই এবং তাঁদের আস্থা অর্জন করতে চাই।”
পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক দায়িত্ববোধ
মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর পিতা মরহুম হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া চৌধুরী ছিলেন একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। তাঁর মাতা মরহুম সমস্ত নাহার বেগম এবং দাদা মরহুম আলী আহমদ চৌধুরী। পারিবারিক মূল্যবোধ ও পিতা-মাতার আদর্শকে নিজের জীবনের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর ভাষ্য, মানুষের পাশে থাকা এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আগ্রহ থেকেই তিনি জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তাঁর বিশ্বাস, জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক, সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
শোভনদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বিএনপির দলীয় সমর্থন অর্জন এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। তবে তাঁর নির্বাচনী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী পরিস্থিতি এবং ভোটারদের রায়ের ওপর।