বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে এপেক্স বাংলাদেশের নাম দীর্ঘদিন ধরেই সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়ে আসছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, মানবসেবা, পরিবেশ রক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং সুনাগরিক তৈরিতে সংগঠনটির ভূমিকা প্রশংসিত। প্রায় এক শতাব্দীর আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের ধারক এই সংগঠন বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে ১৯৬১ সালে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫০টির বেশি ক্লাব ও পাঁচ হাজারেরও অধিক সদস্য রয়েছে বলে সংগঠন সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, বর্তমানে এপেক্স বাংলাদেশ কয়েকটি পৃথক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিটি গ্রুপই নিজেদের “সাংবিধানিক” দাবি করে জাতীয় অ্যাসোসিয়েশন পরিচালনা করছে। ফলে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংগঠনের ভাবমূর্তি ও কার্যকারিতা।
একটি আন্তর্জাতিক সেবামূলক সংগঠনের মূল শক্তি হওয়া উচিত ঐক্য, নেতৃত্ব ও সমন্বিত সেবা কার্যক্রম। কিন্তু নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, প্রশাসনিক মতপার্থক্য এবং সুস্পষ্ট আইনগত কাঠামোর অভাবে এপেক্স বাংলাদেশ আজ বিভক্ত বাস্তবতার মুখোমুখি। সংগঠনের অভিজ্ঞ অনেক অতীত জাতীয় সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ এপেক্সিয়ানও প্রকাশ্যে কিংবা নীরবে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে—এই বিভক্তির শেষ কোথায়?
অনেক সাধারণ এপেক্সিয়ান মনে করেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্বের বাইরে এসে এখন সময় হয়েছে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় সমঝোতা তৈরির। ক্লাব, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের সব পক্ষকে নিয়ে একটি “ঐক্য সংলাপ” আয়োজন করা যেতে পারে, যেখানে অতীত ও বর্তমান নেতৃত্ব একসাথে বসে ভবিষ্যতের রূপরেখা নির্ধারণ করবেন।
এপেক্সের মূল দর্শন “Service, Citizenship and Fellowship”—অর্থাৎ সেবা, সুনাগরিকত্ব ও সৌহার্দ্য। সেই সৌহার্দ্য যদি নিজেদের মধ্যেই অনুপস্থিত থাকে, তবে সমাজের কাছে সংগঠনের বার্তা দুর্বল হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশের মানুষ একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও মানবিক এপেক্স বাংলাদেশ দেখতে চায়। কারণ বিভক্ত সংগঠন নয়, ঐক্যবদ্ধ সেবাই পারে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে।
এখন প্রয়োজন আত্মসমালোচনা নয়, আত্মশুদ্ধি; বিভাজন নয়, সমন্বয়; প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা। সময়ের দাবি—একটি ঐক্যবদ্ধ এপেক্স বাংলাদেশ।
সৈয়দ মিয়া হাসান
সদ্য অতীত জেলা গভর্নর -৩
এপেক্স বাংলাদেশ।