মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন, প্রতিনিধি
আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষকদের অবদান, মর্যাদা ও অধিকারকে স্মরণ করে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। ১৯৯৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ২০২৬ সালে দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য—“শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: ৬০ বছর ধরে পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন”।
শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না; একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীর চরিত্র, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা মানুষের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করার অন্যতম মাধ্যম।
কুরআনে জ্ঞান ও জ্ঞানীদের মর্যাদা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন
“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহু স্তরে উন্নীত করবেন।”
—সূরা আল-মুজাদালাহ: ১১
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইসলামে ঈমানের পাশাপাশি জ্ঞানেরও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। আর সেই জ্ঞান মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার মহান দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা।
কুরআন শিক্ষকের বিশেষ মর্যাদা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।”
—সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫০২৭
অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।”
—জামে তিরমিজি, হাদিস ২৬৪৬
তাই একজন শিক্ষক যখন আন্তরিকতা, আমানতদারি ও আদর্শের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষা দেন, তখন তিনি শুধু একটি প্রজন্ম নয়—সমাজ ও জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখেন।
শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে দেশের সকল শিক্ষক, আলেম-ওলামা, হাফেজ, ক্বারি, মাদ্রাসা শিক্ষক, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ জ্ঞান বিতরণে নিয়োজিত প্রত্যেক মানুষের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করা, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সকল শিক্ষকের জন্য দোয়া—
আল্লাহ তায়ালা তাঁদের ইলমে বরকত দান করুন, সুস্থতা ও নেক হায়াত দান করুন এবং তাঁদের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সঠিক জ্ঞান ও নৈতিকতার আলোয় আলোকিত করুন। আমিন।