এক চোর ধরা পড়ে জেল থেকে বের হয়ে আবার চুরি করে। তার এক বন্ধু জিজ্ঞেস করলো আচ্ছা তুই এত মার কেমনে সহ্য করিস? ধরা পড়লে পাবলিক আর পুলিশতো তোকে সেই মার দেয়। তখন চোর বলল শোন দোস্ত আজকে একটা কথা বলি তোকে, কেউ চায়না মার খেতে কিন্তু যখন তোকে বেঁধে পেটাবে তুইও সহ্য করবি।
কথাটা আমার খুব ভালো লেগেছে। যতই যন্ত্রণাদায়ক হোক যতই অসহনীয় হোক দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে হয় মেনে নিতে হবে নয়তো সামনে আঘাত করতে হবে। বেঁধে পেটালেতো কথাই নেই।
বিশেষ করে আমরা বাঙালিরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি মার খেতে খেতে। যেমন ধরুন নিত্য পণ্যের দাম বাড়ার পর কতশত প্রতিবাদ কতশত মিটিং মিছিল করে দিনশেষে বেঁধে পেটানোর মতো অবস্থা।
সুন্দর সুন্দর কথা বলে লোভনীয় অফার দিয়ে টাকা আদায় করার পর যখন দেখা যায় তারা প্রতারণা করেছে কয়েকদিন চিল্লাচিল্লি করে হতাশ হয়ে আমরা নিরব হয়ে যাই ঐ বেঁধে পেটালে যা হয়।
এই যেমন ধরুন প্রবাসে মালিকের কথার বাইরে আপনি যেতে পারেননা। আপনি সেখানে অনুগত একজন কর্মী। শত নিপীড়ন নির্যাতন আপনাকে সইতে হবে কারণ আপনি সইতে বাধ্য। মুখ বেঁধে পেটালে যা হয়।
এই ধরুন বিদ্যুৎ নেই আপনার ঘরে অথচ আপনি মিটার ভাড়াও দিচ্ছেন আবার ডিমান্ড চার্জও দিচ্ছেন। আপনিতো বলতে পারছেননা তোমরা বিদ্যুৎ দাওনি তাই আমরাও মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ দেবনা। এইতো বেঁধে পেটানোর চরম ধারাবাহিকতা সেই শুরু হতে।
তেলের দাম বাড়ার আগে গাড়ী ভাড়া বেড়ে যায় শুধু মাত্র আমাদের দেশে। তাই অযথা বাড়াবাড়ি না করে সে যা বলে তা দিতে আপনি বাধ্য নাহলে যাওয়াও হবেনা চাকরিও করা হবেনা। আপনি প্রতিদিন এভাবে হাত পা বাঁধা হীন মার খেয়ে যাচ্ছেন।
কি এক অসম যুগে বসবাস আমাদের কি'শোর গ্যাং, ই'ভটিজার, ধ'র্ষক, ব'লাৎকার, খু"নী, অ'পহরণকারী, চাঁ'দাবাজ, দখলদারীত্বের হাতে আপনি জিম্মি। মুখে বলবেন সে উপায় নেই। অতএব বাঁধার দরকার নেই অবলীলায় মার খেয়ে যান দেখে শুনে চুপেচুপে।
আপনি বিবাহিত? তাহলে পরিবারেও আপনাকে এই বেঁধে মার খাওয়ার প্র্যাকটিসটি চালু রাখতে হবে হোক স্বামী বা স্ত্রী দু'জনের ই একই দশা। মুখবুজে সহ্য করতেই হবে। তানাহলে কিন্তু বিপদ সম্মুখীন।
সর্বশেষ বলতে হয় আমরা মার খেতে খেতে এমন হয়ে গেছি আমাদের চামড়াটা গন্ডারের মতো হয়ে গেছে। শত বেঁধে পেটালেও তাতে আমাদের আঘাত লাগেনা। চোখে পানিও আসেনা। এ যেন অধিক শোকে পাথর হয়ে যাওয়ার মতো।