পটিয়া প্রতিনিধি
পটিয়ায় বোন মেরুতে রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত ছয় বছর বয়সী শিশু রাহীর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সামাজিক সংগঠন মানবতার বন্ধন, পটিয়া। ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় পটিয়া ওয়াপদা রোডের সবজি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জনীর হাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নগদ অনুদান তুলে দেন নেতৃবৃন্দ।
শিশু রাহী মোহাম্মদ জনীর ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে বোন মেরুতে রক্তশূন্যতাজনিত সমস্যায় ভুগছে। তার চিকিৎসায় প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয় বলে জানা গেছে। সীমিত আয়ের সবজি ব্যবসায়ী বাবা মোহাম্মদ জনীর পক্ষে নিয়মিত এই বিপুল চিকিৎসাব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে নিতে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে পরিবারটি।
শিশুটির চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় মানবতার বন্ধন, পটিয়া। ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় সংগঠনের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বশর ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর আলম শিশুটির বাবা মোহাম্মদ জনীর হাতে নগদ অনুদান তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া প্রেস ক্লাবের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সেলিম চৌধুরী, মানবতার বন্ধনের নির্বাহী সদস্য তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক দায়বদ্ধতারও অংশ। একটি শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশুর চিকিৎসা যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানবিক উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
তারা আরও বলেন, মানবতার বন্ধন সব সময় অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। শিশু রাহীর চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুটির পরিবারের কষ্ট কিছুটা লাঘব করা সম্ভব। পাশাপাশি অসুস্থ শিশুটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
মানবতার বন্ধনের নেতৃবৃন্দ জানান, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যেই সংগঠনটি বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
শিশু রাহীর চিকিৎসা যেন অর্থাভাবে থেমে না যায়, সে জন্য পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।