আমিনুল হক রিপন, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম, ১৩ জুন ২০২৬ (শনিবার): গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে এগারো দলীয় ঐক্য। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
এসময় নাহিদ ইসলাম বলেন, 'গতকাল ভারতের হাইকমিশনার এসেছেন। তিনি বন্ধুত্বের কথা বলেছেন। কিন্তু গতকালই মৌলভীবাজারে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এসে যে সুসম্পর্কের কথা বলেছেন, আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে, নদীতে বাঁধ দিয়ে কোনো বন্ধুত্ব হয় না। ভারতের আকাশ আর বাংলাদেশের আকাশও এক নয়। ভারতের মাটি আর বাংলাদেশের মাটিও এক নয়। এ ফয়সালা ১৯৪৭ সালে হয়ে গেছে। ১৯৪৭ সালেই ফয়সালা হয়েছিল বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হবে। ১৯৭১ সালে হয়েছে। ২০২৪ সালে পুনরায় ফয়সালা হয়েছে, বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি থাকবে না। বাংলাদেশ কারো সাথে আপোষ করবে না। মর্যাদার সাথে সম্পর্ক তৈরি করবে।'
বাজেটে লুটপাটের পথ বন্ধ করা হয়নি উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর আজ মন খারাপ, মন খারাপ করে কক্সবাজারে তিনি বলেছেন বিরোধীদল কেন বাজেটের সমালোচনা করে। তাঁর মন খারাপ দেখে আমাদেরও মন খারাপ, কারণ আমরা চেয়েছিলাম বাজেটের প্রশংসা করতে। কিন্তু আপনি দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করেননি, লুটপাটের পথ বন্ধ করেননি। ব্যাংক দখল বন্ধ করেনি। আমরা জানি না, এ বাজেটের কত টাকা জনগণের জন্য ব্যয় হবে, আর কত টাকা আপনার দলের নেতাকর্মীদের পকেটে যাবে। আপনার এ বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। এজন্য এ বাজেটের সমালোচনা আমাদের করতে হবে।'
ইসলামী ব্যাংক এস আলমের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'ইসলামী ব্যাংককে এস আলমের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। আপনি যতই অস্বীকার করেন আমরা জানি, এসব আলমকে কারা প্রটেকশন দিচ্ছে, কারা এস আলমের গাড়িতে সংবর্ধনা নিয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ জানে। জনগণ এসব মেনে নেবে না।'
বিদ্যুৎ এর দাম বৃদ্ধির বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন,
'বিদ্যুৎ এর দাম বাড়ানো হয়েছে। জনগণ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। কারণ এ সরকার আওয়ামীলীগ এর বিদ্যুৎ এর চুক্তি বহাল রেখেছেন। আদানির চুক্তি বহাল রেখেছেন। আপনি চুক্তি বহাল রাখবেন, ইসলামী ব্যাংক এস আলমের হাতে তুলে দেবেন, আর বিরোধী দলের থেকে প্রশংসা আশা করবেন এটা হবে না। এটা অনেক বেশি আশা করা হয়ে যাবে। এ বাজেট এর মাধ্যমে এ দেশের অর্থনীতির পরিবর্তন ঘটবে না।'
সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, 'বাংলাদেশের উন্নয়ন করতে হলে, আগে গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংস্কার করতে হবে, পুলিশ সংস্কার করতে হবে, দুদক সংস্কার করতে হবে, বিচার বিভাগ সংস্কার করতে হবে। গতকাল ক্রিকেট টিমের একজনকে চট্টগ্রামে পুলিশ হেনস্থা করেছে। পুলিশ সংস্কার না হওয়ায় এটি ঘটছে। আগের মতোই বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন নেমে এসেছে, সরকার যদি আবারও পুরনো স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে। সরকার যদি স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটে, জনগণও অভ্যুত্থানের পথে হাঁটবে। সংসদকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হচ্ছে। বিরোধী দলকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না।'
স্বৈরতন্ত্রকে শুরুতে ঠেকিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, 'এগারো দলীয় ঐক্য মাঠে আছে। নতুন করে গজিয়ে ওঠা এ স্বৈরতন্ত্রকে শুরু থেকেই ঠেকিয়ে দিতে হবে। সরকারকে সর্বস্তরে জবাবদিহিতা আনতে হবে। জুলাই এর বিপক্ষে যাবে, দুর্নীতির পক্ষে যারা যাবে তাদের প্রতিহত করতে হবে।'
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অব. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ এগারো দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।