বিশেষ প্রতিবেদকঃ
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ ২০২৬—দেশব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস। দিবসটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন, যা দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্মারক।
এই তাৎপর্যপূর্ণ দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব (বিজেসি) চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণ হালিশহর উচ্চ বিদ্যালয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব (বিজেসি)’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোঃ খলিলুর রহমান, মহাসচিব এম নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন বাহার, সাংবাদিক মোঃ বাবুল হোসেন বাবলা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বিল্লাল, সাংবাদিক মোঃ শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক রুবেল, সাংবাদিক নূরনবী, মোঃ বশির উদ্দিন, মোহাম্মদ মিলন, মোঃ জাফরুল ইসলাম জাহিদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল ও অনন্য অধ্যায়, যা ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মদানের মহিমায় উদ্ভাসিত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের পরই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত অধ্যায়, যা দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি লাভ করে।
বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা বাঙালি জাতিকে একত্রিত করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীনতা বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। সেই আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা সময়ের দাবি। প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে তরুণদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরও জোরালোভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিক সমাজকে সত্যনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় দেশপ্রেম, মানবিকতা ও জাতীয় ঐক্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতার মূল চেতনাকে ধারণ করে দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসনভিত্তিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, মহান স্বাধীনতা দিবস শুধু উদযাপনের দিন নয়, বরং আত্মসমালোচনা ও অঙ্গীকারের দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
শেষে তারা মহান স্বাধীনতা দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।