আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর জন্য সমস্ত প্রশংসা। অগণিত দরুদ ও সালাম সৃষ্টিকুলের সর্বশ্রেষ্ট সায়্যিদুল মুরসালিন রহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাওজা-এ আকদস-এ।
আমরা নিজেদের উম্মতে মুহাম্মদী পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। মুমিন মাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মন, প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে এবং তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে। কিন্তু একবার নিভৃতে নিজের হৃদয়ের কাছে কি আমরা এই প্রশ্নটি করেছি- "প্রকৃতপক্ষেই কি আমাদের অস্তিত্বের প্রতিটি স্পন্দনে সেই মহামানবের প্রতি ভালোবাসার স্নিগ্ধ ছোঁয়া আছে, যা ছাড়া ঈমান নিষ্প্রাণ ও অর্থহীন?
আমরা কি উপলব্ধি করতে পারি সেই তাজেদারে হারামের মর্যাদা, যাঁকে সৃষ্টি না করলে এই বিশাল সৃষ্টিজগতের অস্তিত্বই কল্পনা করা যেত না? আমাদের কালিমা, নামাজ, আযান-ইকামত সবকিছুর সাথেই যাঁর পবিত্র নাম মোবারক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, আমরা কি তাঁর প্রতি সম্মান/তাজিমের যথাযথ হক আদায় করতে পারছি?
যাঁর প্রতি মহান রাব্বুল আলামিন সামান্যতম বে-আদবিও সহ্য করেন না, যাঁর শান ও মান স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সুউচ্চ করেছেন, সেই নবীজির প্রতি আমাদের ভালোবাসা কি কেবল মৌখিক দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ, নাকি আমাদের রূহ ও রক্তে মিশে আছে?"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার প্রতি তাজিম ও মুহাব্বত কেবল নেক আমল নয়, বরং এটিই হলো ঈমানের প্রাণ। যেমন আল্লামা ইকবাল (রহ.) বলেন-"কুরআনের মগজ ইমানের রুহ আর দ্বীনের প্রাণশক্তিই হলো মুহাব্বাতে রাহমাতুল্লিল আলামিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা।
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার প্রতি তাজিম ও মোহাব্বতের গুরুত্ব :
প্রিয়নবী রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি অন্তর থেকে মুহাব্বত ও তাজিম থাকা অপরিসীম। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কালামে পাকে হুজুর পূরনুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি মুহাব্বাত তথা ভালোবাসার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য আয়াত নাজিল করেছেন।যেমন আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেছেন- "হে মাহবুব! আপনি বলে দিন, ‘হে মানবকুল, যদি তোমরা আল্লাহ্কে ভালোবেসে থাকো তবে আমার অনুসারী হয়ে যাও, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং আল্লাহ্ তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন; আর আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, দয়ালু।’" [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর শান ও আজমত এতই সুউচ্চ যে স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল ইজ্জত তাঁর প্রতি দরুদ ও সালামের নাজরানা পেশ করেন। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-
"নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ দুরুদ পাঠ করেন এই অদৃশ্যের সংবাদ দাতা (নবী)-এর ওপর। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দুরুদ ও খুব সালাম পাঠ করো।"[সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ৫৬]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন- "তোমাদের কেউ ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না আমি তার সন্তান, পিতা-মাতা ও সকল মানুষের থেকে তার কাছে অধিক ভালবাসার পাত্র হই। "[সহীহ মুসলিম শরীফ ১/৪৯]
হযরত ওমর (রা.)প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন- "হে আল্লাহর রসুল! আমি আপনাকে আমার প্রাণ ছাড়া আর সবকিছু থেকে অধিক মুহাব্বত করি। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন : 'না, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! যতক্ষণ আমি তোমার কাছে তোমার প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় হবো না (ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি ইমানদার হবে না)।'
অতঃপর হজরত ওমর (রা.) বলেন, 'নিশ্চয়ই এখন আপনি আমার কাছে আমার প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়।' রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে ওমর! এখন তুমি ইমানদার হলে।' [সহিহ বুখারী শরিফ ]
হজরত আলি (রা.) বলেন-"প্রত্যেক দুআ (আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়া থেকে) বাধাগ্রস্ত বা আসমানের নিচে ঝুলে থাকে, যতক্ষণ না প্রিয়নবী এর ওপর দুরুদ পাঠ করা হয়।"[তাবরানি ও আওসাত ]
প্রিয়নবীর শান ও মানকে হেয়/অসম্মান করার ভয়াবহ পরিণাম :
মহান আল্লাহ যার উপর দরুদ পাঠ করেন, ফেরেশতাগণ যার শান ও মান বয়ানে সর্বদা ব্যস্ত, নবি-রাসুলগণ যার ভক্ত অনুরক্ত, তিনিই হলেন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী রাসুলে আকরাম (দঃ)। তিনি হলেন সৃষ্টির সূচনা ও কেন্দ্র বিন্দু, তাঁর শান ও মান বুলন্দ করার জন্যই মহান রব্বুল আলামিন এই সৃষ্টি জগত সৃষ্টি করেছেন। যে সকল কাজ, কথা ও ইশারা- ইঙ্গিতের মাধ্যমে সেই রাসুলের শান ও মানে সামান্যতম আঘাত লাগতে পারে, সে সকল কাজ ও কথা কুফরির অন্তর্ভুক্ত। তিনি আমাদের মত মাটির মানুষ, তার মর্যাদা বড় ভাইয়ের মত,তিনি পিয়নের মত, নামাজে নবীর খেয়ালকে গরুও গাধার খেয়াল এর সাথে তুলনা করা, তিনি যে খাতামুন নাবিয়্যিন এবং তাঁর ইলমে গায়েব কে অস্বীকার করা, তাঁর শান বেশি বললে শিরক হবে, তাকে ভক্তি ভরে সালাম দিলে গুনাহ হবে এসবে বিশ্বাস করা মুনাফিকদের আকিদা। যারা এমন কথা ও কাজ দ্বারা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করবে তাদের প্রতি আল্লাহর লানত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
নিশ্চয়ই যারা কষ্ট দেয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে, আল্লাহ তাদের ওপর লানত করেন দুনিয়া ও আখিরাতে এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন লাঞ্ছনাদায়ক আজাব।" [সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ৫৭]
প্রিয়নবীর দরবারে তাঁর কণ্ঠস্বরের চেয়ে অন্য কোন মানুষের কন্ঠের আওয়াজ বড় হলে সেই সামান্য বেয়াদবের জন্যও সারা জীবনের আমল বরবাদ হয়ে যায়। যেমন পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে - "হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বর নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর উঁচু করো না এবং তাঁর সামনে চিৎকার করে কথা বলো না! যেভাবে তোমরা একে অপরের সামনে বলে থাকো;যেন তোমাদের কর্মফলসমূহ নিষ্ফল হয়ে না যায়। যা তোমারা অনুভব করতেও পারবে না ।"
তাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা হল- "রাসূল এর শানে সামান্যতম অবমাননা বা বে-আদবি করা কুফরির শামিল।"
হৃদয়ে রাসূল প্রেমের ফল্গুধারা প্রবাহিত করার কিছু উপায়:
★ অধিকহারে দরুদ শরীফ পাঠ করা এবং মিলাদ-কিয়ামের মজলিসে দাঁড়িয়ে ভক্তির সাথে সালাতুস সালামের পেশ করা ও নাতে রাসুল পাঠ করা।
★হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র জীবনী অধ্যায়ন করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাহর অনুসরণের চেষ্টা করা।
★তাঁর আত্মীয়-স্বজন, আহলে বাইত, আওলাদ, সহধর্মিনী, তাঁর প্রতি আশেক আল্লাহর অলিগণকে ভক্তি ও মুহাব্বত করা।
★সম্ভব হলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওজা মোবারক জিয়ারত করা।
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি মহাব্বত ও তাজিমের শিক্ষা :
প্রকৃত মুহাব্বত ও আদব কেমন হওয়া চাই, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ রেখে গেছেন সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন এবং মুজতাহিদ ইমামগণ। নিম্নে তাঁদের জীবন থেকে কিছু উল্লেখযোগ্য শিক্ষা ও কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হলো:
১। সৈয়্যদুনা সিদ্দিকে আকবর (রাদ্বি.):
হিজরতের রাতে 'সওর' পর্বতে গুহার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ছোট ছোট সকল গর্ত বন্ধ করে সর্বশেষ গর্তটি বন্ধ করার কিছু না পেয়ে নিজের পা দিয়ে গর্তের মুখ ঢেকে রেখেছিলেন, যাতে বিষাক্ত কিছু ওই গর্ত দিয়ে এসে আল্লাহর রসূলের আরামের ব্যাঘাত করতে না পারে। সর্বশেষ ওই গর্তেই বিষাক্ত সাপ এসে ছোবল মারলে সিদ্দীক্ব-ই আকবরের সমস্ত শরীর বিষে নীল হয়ে এক পর্যায়ে শরীরে কম্পন সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এমন মুহূর্তেও সিদ্দীক্ব-ই আকবর (রা.) নিজের জীবন থেকে নবীজির আরাম কে প্রাধান্য দিয়ে নবীজীর ঘুম ভেঙ্গে যাবে, কষ্ট হবে এমন ভেবে একটু শব্দও করেননি। এটি তো শুধু একটি দৃষ্টান্ত। এরকম হাজারো দৃষ্টান্ত হযরত সিদ্দীক্ব-ই আকবর (রা.) পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে গেছেন।
২। উরওয়া ইবনে মাসউদের সাক্ষ্য ও সাহাবীদের প্রেম:
হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় কাফেরদের প্রতিনিধি উরওয়া ইবনে মাসউদ ফিরে গিয়ে কুরাইশদের বলেছিলেন "আমি পারস্যের কিসরা ও রোমের কায়সারের দরবার দেখেছি, কিন্তু মুহাম্মাদ ﷺ-এর সাহাবীরা তাঁকে যতটা সম্মান করে, তেমনটা আর কোথাও দেখিনি। তিনি ওযু করলে তাঁরা তাঁর ব্যবহৃত পানি মাটিতে পড়তে দেয় না, বরং বরকত হিসেবে শরীরে মেখে নেয়। তিনি কথা বললে সবাই নিস্তব্ধ হয়ে যায় এবং আদবের কারণে তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে সরাসরি কথাও বলেন না।" সুবহানাল্লাহ।
৩। ইমামুল মুহাদ্দিসিন ইমাম বুখারী (রহ.):
বিশ্বখ্যাত হাদিস গ্রন্থ 'সহীহ বুখারী শরিফের সংকলক ইমাম বুখারী (রহ.) প্রতিটি হাদিস লিপিবদ্ধ করার আগে গোসল করে নিতেন এবং দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। তিনি কোনো হাদিসই ওযু ও নামাজ ছাড়া লিখতেন না। বরং পরম আদব ও মুহাব্বত একাগ্রতা ছাড়া তিনি প্রিয়নবী ﷺ এর একটি শব্দও কাগজে তুলতেন না। এই উচ্চমানের আদবই তাঁর কিতাবকে পৃথিবীর বুকে শ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধ কিতাবের মর্যাদা এনে দিয়েছে।
৪। আলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান (রহ.):
ইমাম আলা হযরত (রহ.) মুহাব্বতে রাসূল (দ.) এর এমন এক অনন্য আদর্শ স্থাপন করেছেন, যেখানে তিনি নবীজির নাম মোবারক লেখার সময় কখনো সংক্ষেপে লিখতেন না, বরং পরম ভক্তিতে পূর্ণ দরুদ শরীফ 'صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ' লিপিবদ্ধ করতেন। তাঁর লিখিত কুরআনের অনুবাদ 'কানজুল ঈমান' পাঠ করলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, নবীজির প্রতি তাঁর হৃদয়ে কত গভীর ভালোবাসা ও সম্মান ছিল।তিনি তরজমা করার সময় এমন সব সৌন্দর্য মন্ডিত, চমৎকার ও শ্রদ্ধাশীল শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা পড়লে মনের ভেতরে নবীজির জন্য আলাদা একটা ভক্তি তৈরি হয়।
সাহাবায়ে কেরাম ও আইম্মায়ে কেরামের এই নূরানি জীবন থেকে আমরা এই অমূল্য শিক্ষাই পাই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি পরম আদব ও বিনম্র ভক্তিই হলো ঈমানের মূল। তাঁদের প্রতিটি কাজ আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, দ্বীনি ইলম বা আমল কেবল তখনই আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দরবারে কবুলিয়াত পায়, যখন তা সরকারে দোআলম হুজুর পূর নূর ﷺ এর সুউচ্চ শান পূর্ণ তাজিম এবং নিঃস্বার্থ মুহাব্বতের সাথে সম্পন্ন করা হয়। মূলত এই তাজিমপূর্ণ আনুগত্যই হলো দোজাহানে কামিয়াবি ও নাজাতের উসিলা।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- হে হাবীব বলুন! ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমি(নবীকে) অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’। [সুরা নিসা-আয়াত ৩১]
শেষ করছি চরণটি আ'লা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান (রহ.)-এর একটি বিখ্যাত উর্দু নাতের অংশ, যেখানে তিনি নবীজি (দ.)-এর প্রতি ভালোবাসায় নিজের দেহ ও সম্পদ উৎসর্গ করার কথা তুলে ধরেছেন। এই কালজয়ী নাতগুলোতে রাসুল (দ.)-এর প্রতি গভীর প্রেম ও আধ্যাত্মিক আত্মত্যাগের চিত্র ফুটে ওঠে, যা তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'হাদায়িকে বখশিশ'-এ।
"মোরা তন-মন-ধন সব ফুঁকে দিয়া,
ইয়্যে জান-এ ভী পেয়ারে জালা জানা"
শিক্ষার্থীঃ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা কামিল মাদরাসা,ষোলশহর, চট্টগ্রাম।