পটিয়ায় ৪ বছরের নিষ্পাপ শিশু জায়ানের ওপর যে বর্বরোচিত, অমানবিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, তাতে পুরো পটিয়াবাসীর সাথে আমরাও গভীরভাব শোকাহত, স্তব্ধ এবং ক্ষুব্ধ। গতকাল যে অবুঝ শিশুটির অপহরণের খবর ও মুক্তিপণের চিঠির ভাষা আমাদের শঙ্কিত করেছিল, আজ সকালে তার নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনা আমাদের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
স্রেফ কিছু নরপিশাচের অর্থলোভের বলি হতে হলো একটি ফুটফুটে নিষ্পাপ প্রাণকে। মা-বাবার একমাত্র সন্তানকে এভাবে কেড়ে নিয়ে তারা শুধু একটি পরিবারকে ধ্বংস করেনি, বরং পুরো পটিয়ার নিরাপত্তাকে আজ প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
একটি স্বাধীন দেশে আমাদের শিশুরা কেন এভাবে নির্মমতার শিকার হবে? কেন অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে না? এই সংস্কৃতির পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
'Apex Club of Patiya'-এর পক্ষ থেকে আমরা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
একটি সামাজিক ও সেবাধর্মী সংগঠন হিসেবে আমরা আমাদের সমাজের ভবিষ্যৎ—শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার পক্ষে সর্বদা সোচ্চার।
পটিয়াবাসী ও প্রশাসনের নিকট আমাদের জোরালো দাবি:
অনতিবিলম্বে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আটককৃত প্রতিটি খুনি ও দুষ্কৃতকারীকে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো অপরাধী এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।
আমরা জায়ানের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে ফরিয়াদ জানাই, তিনি যেন জায়ানকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সুবাসিত ফুল হিসেবে কবুল করেন।
মানুষের তৈরি আইনের ওপর ভরসা যখন ক্ষুণ্ন হয়, তখন আল্লাহর দরবারেই বিচার সঁপে দেওয়া ছাড়া পথ থাকে না—হে আল্লাহ, এই পিশাচদের বিচার আপনি নিজ হাতে করুন।
আসুন, পটিয়ার সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক, দল-মত নির্বিশেষে আমরা সবাই এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হই।
আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আর কোনো জায়ানের রক্ত ঝরার আগেই খুনিদের ফাঁসি চাই।
নিবেদক,
এপে: মুহাম্মদ আরিফ খান
সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট
এপেক্স ক্লাব অব পটিয়া