এম এস শ্রাবন মাহমুদ স্টাফ রিপোর্টার।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন (ইন্না- লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ২৫ খ্রিঃ সকাল ৬ঃ০০ টায় সময় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৮০ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে নানাবিধ বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি সমস্যাসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন।
গত ২৩ নভেম্বর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এরপর থেকে তাঁর অবস্থা পর্যায়ক্রমে অবনতির দিকে যেতে থাকে।
মৃত্যুর আগে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর)২৫ খ্রিঃ রাত ২ঃ০০টার পর হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, "বেগম জিয়া অত্যন্ত সংকটময় একটি সময় অতিক্রম করছেন"।
মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও ‘আনফিট’ থাকায় তাঁকে দেশের বাইরে পাঠানো সম্ভব হয়নি। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডের তত্ত্বাবধানেই তাঁর শেষ চিকিৎসা চলছিল।
বেগম খালেদা জিয়া জন্ম: ১৯৪৫ সাল।
স্বামী (শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) মৃত্যুর পর বিএনপির হাল ধরেন এবং তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সাল থেকে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেন এবং পরবর্তীতে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্ত হয়ে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ ও হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরহুমার জানাজা ও দাফনের বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত আজ বিকেলের মধ্যে জানানো হবে।
দলীয় প্রধানের মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।