মুহাম্মদ আবদুল আলী- চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম, ২৩ জুন ২০২৬: ঐতিহাসিক পলাশী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আব্দুল খালেক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, পলাশীর মূল শিক্ষা হচ্ছে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলা। তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুসলিম ঐতিহ্য ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় রাজনীতিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পলাশী দিবস উদযাপন পরিষদের আয়োজনে “আর নয় পলাশী : চাই জাতীয় ঐক্য ও সংহতি” শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহ্বায়ক এস এম সিরাজুদ্দৌলাহ্। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানবাধিকার আইনবিদ ও সুশাসন কর্মী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মুহিবউল্যাহ্ ছিদ্দিকী। সেমিনারের উদ্বোধন করেন নবাব সিরাজউদ্দৌলাহ্’র নবম রক্তধারা প্রজন্ম সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেফ (নবাবজাদা আলী আব্বাসউদ্দৌলা)।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্বে সত্যকে সমুন্নত রাখা এবং স্বদেশপ্রেম, স্বদেশীয় রাজনীতি ও মুসলিম ঐতিহ্য-আদর্শ সংরক্ষণে ঐতিহাসিক পলাশীর শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি সরকার, সংসদ ও দেশপ্রেমী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে পলাশীর বিপর্যয় থেকে যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মুহিবউল্যাহ্ বলেন, পলাশীর প্রধান শিক্ষা হলো—যোগ্যতা ও অর্জন থাকলেও সততা, বিশ্বস্ততা ও দায়িত্ববোধ হারালে তার চরম পরিণতি ভোগ করতেই হয়। তিনি বলেন, নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিশ্বস্ত প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে শুধু নবাবের পরাজয়ই হয়নি, বরং ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের অবসানের পথও উন্মুক্ত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ইংরেজ শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবু বকর রফীক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামী সাহিত্যিক ও মানবাধিকার গবেষক মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আনোয়ার। ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চিটাগং-এর ক্যাম্পাস কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন সঞ্চালিত সেমিনারে প্রবন্ধের আলোকে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ্ নোমান, ইতিহাস অন্বেষা সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলাম, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষক সোহেল মোহাম্মদ ফখর-উদ-দীন এবং ইসলামী সমাজচিন্তক প্রিন্সিপাল আবদুর রহমান চৌধুরী।
দ্বিতীয় পর্বে ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক সাময়িকী ‘নাগরিক বার্তা’-র বিশেষ সংখ্যা প্রকাশনা উপলক্ষে সম্পাদকীয় উপস্থাপন করেন সাময়িকীর সম্পাদক ও পলাশী দিবস উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব প্রবীণ সাংবাদিক এম ওসমান গণি।
এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রবীণ মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ লিয়াকত আলী ও আলী মুনীর খোরাসানী। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন মাওলানা মুহাম্মদ করীম উদ্দীন নূরী। এছাড়া স্কাউট লিডার ট্রেনার মো. সোলায়মান এবং সাংস্কৃতিক পর্বে কাজী নাজমুল হাসান সেলিম ও মো. নজরুল হোসেন কবি কাজী নজরুল ইসলামের ইসলামী তারানাহ্ পরিবেশন করেন।