মোঃ মনিরুল ইসলাম রিয়াদ
স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোঃ ফারুক (৪৮) নামে বাংলাদেশ পুলিশের এক সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রিয়জনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার।
জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে সীতাকুণ্ড উপজেলার হাফিজ জুট মিলস এলাকার বার আউলিয়া সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত তাকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের আইসিইউতে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যার মধ্যে চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত মোঃ ফারুক নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্দিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে সততা ও দায়িত্বশীলতার জন্য সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন সুপরিচিত। তার মৃত্যুতে সহকর্মী ও পরিচিত মহলেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চিকিৎসকদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। সেই আঘাতজনিত জটিলতা থেকেই শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা দেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বার আউলিয়া সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। এতে পথচারীদের জন্য রাস্তা পারাপার বা চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোটরসাইকেল ও চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে কিনা সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার মতামত নেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে নিহত ফারুকের পরিবার। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি অত্যন্ত সৎ, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল মানুষ ছিলেন। পরিবারের প্রধান অবলম্বনকে হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তা ও শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, সড়কে বেপরোয়া যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাই পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।